অজিত কুমার দাশ, ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৭:৩৬
৪৩ বছরের কর্মজীবন শেষে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনের রাজকীয় বিদায়
দীর্ঘ ৪৩ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণ করলেন সমতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।
অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনের অবসর গ্রহণের খবরে ছাতক উপজেলার সমতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। তাঁকে একনজর দেখতে এবং শেষবারের মতো শুভেচ্ছা জানাতে বিদ্যালয়ে ভিড় করেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরাও উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তাঁর সম্মানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় সংবর্ধনা। সকালে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়।
অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনকে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও পাঞ্জাবি উপহার দেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্মাননা প্রদান করা হয় তাঁকে। এছাড়া ১৯৯৫ সালের এসএসসি ব্যাচের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি ওমরাহ প্যাকেজ উপহার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে ফুল দিয়ে সাজানো একটি প্রাইভেটকারে করে সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ১ অক্টোবর অফিস সহকারী হিসেবে সমতা স্কুল অ্যান্ড কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন নাসির উদ্দিন। পরে ১৯৯১ সালের ১ অক্টোবর জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে সহকারী শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ২০১৭ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুস সামাদের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
বিদায় সংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, “বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর এমন ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে আমি সবসময় পাশে থাকবো।”
স্মৃতিচারণ করে প্রভাষক মোশাররফ হোসেন বলেন, “স্যারের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ ও সাহসী শিক্ষক। যেকোনো সংকটে তাঁকে আমরা অভিভাবকের মতো পাশে পেয়েছি।”
এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল আহাদ বলেন, “স্যারের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক উন্নয়ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইট-পাথরে তাঁর অবদান জড়িয়ে আছে।”
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এএসএম আব্দুল মুমিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক গৌছুল হক নাঈমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হাজী ইলিয়াস মিয়া, গৌছ খাঁ, দবিরুল ইসলাম, পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হেনা, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ মিয়া, কালিপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি নুরুল হক, আওলাদ মিয়া, এলপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমান, শিক্ষক এবিএম মাছুম, সমাজসেবক ফয়জুল বারী, ছাতক ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন, প্রবাসী আব্দুল মতিন খোকন, ছাতক উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান, প্রভাষক সিতাব আলী ও সিনিয়র শিক্ষক সালাহ উদ্দিনসহ অনেকে।
এছাড়া ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন লন্ডন প্রবাসী সমাজসেবক মনছব আলী জেপি ও হীরা মিয়া।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।