টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ বিকাল ০৫:৪১:৫০
গোপালগঞ্জে সরকারি জায়গা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মার্কেটের মূল নকশার বাইরে সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে সামনের দুই পাশ ও পেছনের অংশে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। পরে এসব স্থাপনা দোকান হিসেবে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অবৈধভাবে নির্মিত এসব স্থাপনার কারণে মার্কেটের ড্রেনেজ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মার্কেটের সামনে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং ক্রেতাদের চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দোকান ভাড়ার ক্ষেত্রে কেয়ারটেকার রেজাউল শেখ মধু “জামানত” বা অগ্রিমের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। তবে এসব অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা বৈধ চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে না। কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার দোকানের চুক্তি নবায়ন করা হয় না কিংবা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী দাবি করেন, প্রতিবাদ করায় অনেক ব্যবসায়ীকে দোকান ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। কেউ কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
মার্কেটের এক ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী জানান, তিনি সামনের একটি দোকান কেয়ারটেকার রেজাউল শেখ মধুর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া নিয়েছেন। এজন্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা অগ্রিম এবং প্রতি মাসে ২৩ হাজার টাকা ভাড়া প্রদান করছেন। একইভাবে অন্য একটি দোকানের ভাড়াটিয়াও প্রায় ১০ লাখ টাকা অগ্রিম ও মাসিক ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়ার তথ্য জানান।
সিটি স্কয়ার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন,
“মার্কেটের সামনে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
আরেক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রাহুল অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, “মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না।”
স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্ত কেয়ারটেকার এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কেয়ারটেকার রেজাউল শেখ মধুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মার্কেটের সামনের জায়গাটিও মার্কেট মালিকের। সেখানে যে দোকান করা হয়েছে তা মার্কেট মালিকই করেছেন। মার্কেট মালিক আমার কাছ থেকে চুক্তিনামা নিয়েছেন আর আমি দোকানদারদের কাছ থেকে চুক্তিনামা নিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”