মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১২:২১:২৩
শ্রীমঙ্গলে প্রবাসী যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত, মামলা দায়ের; গ্রেফতার ৯
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১নং মির্জাপুর ইউনিয়নের শহরশ্রী এলাকায় প্রবাসী এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভবানপুর এলাকার আব্দুল হক গংদের সঙ্গে একই এলাকার রুমান মিয়াদের দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ১৬ এপ্রিল রুমান মিয়ার ছোট ভাই আলামিন মিয়া দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসে শহরশ্রী বাজারে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল হকের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আলামিন মিয়ার ওপর হামলা চালায়। এ সময় লুৎফুর মিয়া, মছদ্দর আলী, ওয়াইজুল মিয়া, রিয়াদ মিয়া, অলি মিয়া, আশক মিয়া, সাইফুল মিয়া ও হোসাইন মিয়াসহ আরও কয়েকজন রাম দা দিয়ে তার মাথা, ঘাড়, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। পাশাপাশি আরও ৮-১০ জন কাঠের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আলামিন মিয়াকে মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতের বাবা আরজদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা অতীতেও এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে এবং এখনও একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ভাই রুমান মিয়া বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজু মিয়া জানান, চিৎকার শুনে তারা গিয়ে আলামিন মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিছলু আহমেদ চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর আহতকে দেখে তার অবস্থা গুরুতর মনে হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মামলার প্রেক্ষিতে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।