কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬ বিকাল ০৪:১৪:০০
মেয়ের ধর্ষণের মামলা করে এখন সন্তানসহ বাড়িছাড়া পরিবার
শুক্রবার সকালে শহরের আখড়াবাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই নারী বলেন, তাদের বাড়ি সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভাবুন্দিয়া গ্রামে। মেয়েটির বাবা একজন মাটিকাটা শ্রমিক। মা মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। তাদের দু’টি মেয়ে। সাড়ে সাত বছরের বড় মেয়ে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। পাঁচ বছরের ছোট মেয়ে একই স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় বড় মেয়েকে প্রতিবেশি সৌদি প্রবাসী লিটন মিয়ার ছেলে সানিম (১৫) সেন্টারফ্রুট চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে এক পর্যায়ে মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায়। এরপর আসামী তার বাড়ির পেছনে নিয়ে জোরপূর্বধ ধর্ষণ করে। মেয়েটি বাড়িতে এসে মায়ের কাছে ঘটনার বিবরণ দিলে পরদিন মা বাদী হয়ে সানিমকে একমাত্র আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় মামলা করেন। এদিনই সানিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। সানিম বর্তমানে গাজীপুর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মামলা করার পর থেকেই সানিমের বাবা সৌদি থেকে ফোন করে বাদী পক্ষকে কেটে টুকরো টুকরো করে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। আসামীর চাচা বাদল মিয়া, আল আমিন, আরজু মিয়া, বাবুল মিয়া, চাচাত ভাই উজ্জ্বল ও রায়হানসহ স্বজনরা বাড়িতে গিয়ে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। প্রাণ ভয়ে মেয়েদের নিয়ে মা এখন কিশোরগঞ্জ পৌরসভার কানিকাটা এলাকায় বোনের মেয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। এখন দুই মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে আছে। মেয়েদের বাবা কেবল ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে থাকেন। শিশুটির মা পুলিশ বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেছেন। ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেছেন।