টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৭:২৭:১৫
টুঙ্গিপাড়ায় বাশুড়িয়া সেনেরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন বেহাল, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাশুড়িয়া সেনেরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোনো নতুন ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে জরাজীর্ণ ও বেহাল ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান গ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সিলিং ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে বালু-ইট নিচে পড়ছে। এর আগে চলন্ত ফ্যান খুলে এক ছাত্রীর মাথার ওপর পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্য দিয়েই চলছে এখানকার শিক্ষা কার্যক্রম।
স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৬ সালে নির্মিত এই ভবনটি সঠিক তদারকি ও নিম্নমানের কাজের কারণেই আজ এ অবস্থায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত লাইট-ফ্যানের অভাব এবং মাঠে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্কুলের শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি জরাজীর্ণ। শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে খুবই ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমাদের ক্লাসরুমে পর্যাপ্ত লাইট ও ফ্যান নেই। তার ওপর মাঠ থেকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি এবার এসএসসিতে উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অথচ আমরা প্রতিনিয়ত মাথার ওপর ফ্যান ও ইট-বালু খসে পড়ার ভয়ে থাকি। আমাদের আকুল আবেদন- দ্রুত একটি নতুন বিল্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল কুমার বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় সেরা ফলাফল করা সত্ত্বেও আমাদের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ ও দেয়াল থেকে প্রতিনিয়ত প্লাস্টার ঝরে পড়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে থাকে। নিরাপদ পাঠদানের স্বার্থে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে দ্রুত সংস্কার ও নতুন ভবনের দাবি জানাচ্ছি।