মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৬:৩৭
নওগাঁ সদরেও অবৈধ বালু উত্তোলন: ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হুমকিতে এলাকাবাসী
নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নে রাজ্জাক নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাতাশ কালিপুর গ্রামে বিলের পানি নিষ্কাশনের খাড়িতে ডেজার বসিয়ে দিনের পর দিন বালু তোলা হচ্ছে, যা খাড়ির দুই পাড়ের বাঁধ এবং আশপাশের ফসলি জমির জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
এলাকাবাসী জানান, ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন খাড়ি থেকে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে খাড়ির পাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাজ্জাকের রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলে মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে রাজ্জাক হুমকি দিয়ে বলেন, তিনি সরকারি খাড়ি থেকেই বালু তুলছেন এবং তা সরকারি কাজে ব্যবহার করা হবে। "আমরা কিছু বললেই উনি বলেন- তোমরা কি সরকারি লোক?"- এমন কথাও শোনার অভিযোগ করেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাড়ির নির্দিষ্ট স্থানে ডেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। সেখানে শ্রমিকদের তদারকি করতে দেখা যায় রাজ্জাকের স্ত্রীকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এই বালু চেয়ারম্যানের রাস্তার কাজে যাচ্ছে, এর বেশি কিছু বলতে চাই না।"
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি আমাদের এলাকায় বালু তুলছি, এতে কোনো সমস্যা নেই। এই বালু সদর আসনের এমপির ভায়রা, ৬ নম্বর দুবলহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মতিনের রাস্তার কাজে দেওয়া হচ্ছে।" তবে, সংসদ সদস্য জানেন কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "সম্ভবত এমপি জানেন না, তবে চেয়ারম্যান জানেন এবং বুঝেই বালু নিচ্ছেন।"
বালু উত্তোলনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজ্জাক বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, "আপনি নওগাঁ কোর্টের সামনে এসে কথা বলুন, সামনাসামনি আলোচনা হবে।"
এদিকে, অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি টাকা দিয়ে বালু কিনে নিচ্ছি। বালু কোথা থেকে আনা হচ্ছে, সেটা আমি জানি না। আমার প্রয়োজন বালু পেলেই হলো।"
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিন মাহমুদ বলেন, “হাসায়গাড়ি মৌজায় কোনো নদী নেই। সেখানে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে খাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।