মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৮:১০
আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ: মৌলভীবাজারে বাজারের টোল আদায় নিয়ে বিতর্ক
মৌলভীবাজার সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের স্থিতাবস্থার (Status Quo) নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাজারের টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মিণাল কান্তি দেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী উজ্জল হোসেন।
এ বিষয়ে টোল আদায় বন্ধ ও ইজারা না দেওয়ার দাবিতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার প্রেমনগর চা বাগান (সাবেক মৌজা) নিতেশ্বর এলাকায় প্রায় ৭৯ একর ভূমির ওপর উজ্জল হোসেন ও তার পরিবারের মালিকানা দাবি রয়েছে। জমিটি এসএ ও আরএস খতিয়ানভুক্ত হলেও নাম সংশোধন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন ভূমিটি বাজার হিসেবে ইজারা দিয়ে আসছে।
এ নিয়ে উজ্জল হোসেন সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, সদর, মৌলভীবাজারে স্বত্ব ঘোষণা চেয়ে ১৭৭/২০০৮ (বর্তমান ২০১/২০২৬) নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১ নম্বর বিবাদী প্রেমনগর চা-বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো স্বত্ব নেই বলে আদালতে জানালেও ২ নম্বর বিবাদী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক মামলাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন।
মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আদালত সংশ্লিষ্ট ভূমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাজার হিসেবে ইজারা কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি টোল আদায় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, একটি পক্ষ ভূমিটি বাজার হিসেবে ইজারা নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাট-বাজার উল্লেখ করে দরপত্র আহ্বানও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মিণাল কান্তি দেব বলেন, “নিতেশ্বর বাজার সংক্রান্ত কোনো মামলা বা স্থিতাবস্থার নির্দেশ আমরা পাইনি। সরকারের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে টোল আদায় করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন বলেন, “নিতেশ্বর বাজারের ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় আদালতে কোনো মামলা ছিল না। তবে আজ (১৫ এপ্রিল) উজ্জল হোসেনের আবেদনসহ স্থিতাবস্থার একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।