নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০২:৪৭:২৮
ঢাবিতে শুরু হলো ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ চিত্রপ্রদর্শনী
‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন-২০২৬। একই সঙ্গে উদ্বোধন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ম্যারাথনটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাবি শিবিরের নেতারা জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করার ঘটনাকে স্মরণ এবং জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
ম্যারাথনটি কার্জন হল থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি, তোরণ, হাজী মুহম্মদ মহসিন হল ও মাস্টারদা সূর্যসেন হল প্রদক্ষিণ করে কলাভবনে গিয়ে শেষ হয়। ম্যারাথন শেষে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তিন দিনব্যাপী (১৭-১৯ জুলাই) বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ডাকসুর পরিবহণ সম্পাদক এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ১৭ জুলাই সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নয়া আজাদীর সূচনা করেছিল, যার চূড়ান্ত রূপ আসে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে। জুলাইয়ের শহীদদের বিচার নিশ্চিত করতে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
ডাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, গণপরিসর থেকে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু ব্যক্তি পুনরায় ফ্যাসিবাদের বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাইয়ে বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদের জুলুমের ইতিহাস বারবার জনপরিসরে তুলে ধরতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, দুই সহস্রাধিক শহীদ ও অসংখ্য আহতের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রদর্শনীতে জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতিচারণ, আলোকচিত্র, তৎকালীন নিপীড়নের বিভিন্ন দলিল, জুলাই আন্দোলনের স্মারক, ইনকিলাবি সংগীত এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন স্থান পেয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চলবে। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনী পরিদর্শনের আহ্বান জানান।