এ প্রজন্মের মডেল ও অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি। সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের বিপরীতে ‘এই নিয়ে সংসার’ নামের একটি নতুন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ফেরারি ফরহাদের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন শাহ মোহাম্মদ রাকিব।ইতোমধ্যে রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নাটকটিতে প্রথমবারের মতো মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা মিমি।নতুন নিয়ে অভিনেত্রী অনিন্দিতা মিমি বলেন, 'ফারহান ভাইয়ের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করা। প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ ছিল। তিনি খুবই আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী। নাটকটির গল্পও বেশ চমৎকার, যেখানে সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। চরিত্রটিও আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে কাজটি করে আমি খুবই আনন্দিত। আশা করছি, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে এবং আমাদের কাজটি তাদের মনে জায়গা করে নেবে।'জানা গেছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৬০ প্লাসের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রচারিত হবে।
২ দিন আগে
'জুলাই যোদ্ধাদের ভয় দেখিয়ে বা হামলা করে নিরাপদ হওয়া যাবে না; বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হামলাকারীরাই নিজেদের আরও অনিরাপদ করে তুলছেন ' বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও জুলাই যোদ্ধা আজমেরী হক বাঁধন।সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালি থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ইতালিতে তাকে হেনস্থার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন বাংলাদেশির দ্বারা হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি।ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাঁধনের দাবি, তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।এ সময় বাঁধন বলেন, বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনায় শুধু তিনি নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দলকানা না হয়ে পরিবারের কথা ভাবার আহ্বান জানান।বাঁধন আরও জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে এ ঘটনায় মামলা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
৪ দিন আগে
কেশকিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দুষ্টু কোকিল খ্যাত টালিউডের সুপারস্টার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের খবর বেশ চাউর হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন অভিনেত্রী। শীতের আবহে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে বসতে পারে বিয়ের আসর।তবে বিয়ের খবরের চেয়েও বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে মিমির কথিত জীবনসঙ্গীকে ঘিরে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁর নাম সিদ্ধার্থ। তিনি চলচ্চিত্রজগতের কেউ নন, নৌবাহিনীতে কর্মরত।এরই মধ্যে সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিমির একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গেছে। পূজার সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডার মধ্যেই ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। ছবিতে দুজনকে হাসিখুশি দেখা গেছে।সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হচ্ছে, পূজার আবহেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন ধাপে এগিয়েছে। এমনকি বিয়ের কেনাকাটা ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।যদিও মিমি চক্রবর্তী কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত বিয়ে বা সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে ডিসেম্বরের বিয়ের খবরটি এখনো গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে।জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে যাদবপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন মিমি।বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এখন দেখার, সত্যিই কি ডিসেম্বরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মিমি, নাকি এই খবর শুধুই জল্পনা।
৫ দিন আগে
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র যে ভূমিকাতেই তিনি হাজির হয়েছেন নিজের অভিনয়গুণে সেটিকে করে তুলেছেন অনন্য। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি দর্শকের কাছে এটিএম শামসুজ্জামান নামেই পরিচিত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে রেখে গেছেন এমন সব চরিত্র, যেগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও আলাদা করে মনে রাখা হয়।অভিনেতা শুরু কিন্তু অভিনয় দিয়ে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করে পরে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখা এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার অন্যতম বহুমাত্রিক শিল্পী।চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের পথচলা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্রের নানা কাজে যুক্ত হন। কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখাতেও ছিল তার দক্ষতা। ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন করে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। এটিএমকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায়। শুরুতে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরে নিজেকে নানা ধরনের চরিত্রে মেলে ধরেন। এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৭৬ সালে। আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। এই সিনেমার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন দর্শকের কাছে তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু তাঁকে শুধু খলনায়কের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি।এটিএম শামসুজ্জামানের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্র বদলে ফেলার ক্ষমতা। একদিকে যেমন ভয়ংকর বা কঠিন চরিত্রে দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছেন, অন্যদিকে কৌতুক চরিত্রেও হয়েছেন সমান জনপ্রিয়। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’তে তার হাস্যরসাত্মক অভিনয় দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে কৌতুক অভিনয়ের জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বীকৃতি পেয়েছেন।এটিএম শামসুজ্জামানের ক্যারিয়ারে দারুণ সব সিনেমা আর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘গেরিলা’র মতো সিনেমায় তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো সাহিত্যনির্ভর সিনেমায় তার অভিনয় দেখিয়েছে, কমেডি বা খলচরিত্রের বাইরেও কতটা শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন তিনি। নিজেও এক সাক্ষাৎকারে সাহিত্যনির্ভর গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন।অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। ২০১৫ সালে পান একুশে পদক। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননাও দেওয়া হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখা এবং পরিচালনাতেও তাঁর অবদান ছিল। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমা পরিচালনা করেন তিনি। এ টি এম শামসুজ্জামান ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
১ সপ্তাহ আগে