ইরান শত্রুকে তার এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলা ইরানের যুদ্ধের মধ্যে
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের মাটি ও পানি রক্ষায় সবার এগিয়ে
আসা উচিত। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইরান শত্রুকে তার এক ইঞ্চি জমিও
দখল করতে দেবে না।প্রতিবেশী ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরান সুসম্পর্ক
চায়, এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘শত্রু দেশগুলো বিভেদ তৈরির
চেষ্টা করছে।তিনি আরো বলেন, ‘অন্যকোনো দেশের ভূখণ্ড থেকে আসা হামলার
জবাব দিতে ইরান বাধ্য হচ্ছে। তবে এর অর্থ এ নয় যে ওই নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ইরানের
কোনো বিরোধ রয়েছে। যারা ইরানকে আক্রমণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে তেহরান শক্ত অবস্থানে রয়েছে
ও অত্যন্ত জোরালোভাবে এর জবাব দেওয়া হবে।’মাসুদ পেজেশকিয়ান জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ও রাস্তায় নামার
আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইরানের মাটি ও পানি রক্ষায় সবার এগিয়ে আসা উচিত।জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইরান শত্রুকে
তার এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না।’
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
৮ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:০৮:১২
আমরা ট্রাম্পকে ছাড়ব না: ইরান
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি বলেছেন,
ইরানে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেজন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
‘আন্তর্জাতিক ভুল হিসাব-নিকাশ’
এবং এজন্য তাকে মাশুল গুনতেই হবে। তার আগ পর্যন্ত ইরান পিছু হটবে না।শনিবার (৮ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলে
দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এখন ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যা হচ্ছে— তা আসলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
ভুল আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশের ফলাফল। তিনি ভেবেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় তিনি যা করেছিলেন— এখানেও সেই একই মডেল প্রয়োগ
করবেন। তা করতে গিয়ে তিনি নিজেই পড়েছেন ঝামেলায়। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি
কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন এখন নিজেদের ভুল হিসাবের কাদাজলে আটকা পড়েছে।”ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি
পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার
সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের
সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন
রোয়ারিং লায়ন’
শুরু করে ইসরায়েলও।হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন
সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান।
সূত্র : সিএনএন
৮ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৪৭:০৪
ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে আট
দিন পেরিয়ে হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত
হওয়ার পর আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ
বন্ধে যেকোনো ধরনের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন
তিনি।সেইসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় এবার ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে
হত্যার হুমকি দিয়ে বসেছেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের অষ্টম
দিন শনিবার (৭ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদেরকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন,
ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় আগ্রহী নই আমি। যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে, যখন তেহরানের আর
কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না বা ক্ষমতায় কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট থাকবে না।তিনি বলেন, যদি ইরানের সম্ভাব্য সব নেতা নিহত হন এবং দেশটির
সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আলোচনার প্রশ্নই আর থাকবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, একসময় এমনও হতে পারে যে ‘আমরা আত্মসমর্পণ
করছি’—এটা বলার মতো কেউই আর বেঁচে
থাকবে না।
৮ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৪১:১২
নতুন দফায় তিন দেশে হামলা ইরানের
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে হামলার
মাত্রা বেড়ে চলছেই। এর মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন দফায় হামলা
চালিয়েছে ইরান। আর নতুন দফায় এসে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দিয়ে
হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে ইরান। দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইরানের বেশ কয়েকটি
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করা হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো হামলায় ২২০ জন
মার্কিন সেনা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে ইরান। খবর প্রেস টিভির।শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের
(আইআরজিসি) আওতাধীন খতম আল-আনবিয়ার সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট
কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি এ তথ্য জানিয়েছেন।তার দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য
করে চালানো হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এয়ার বেসে থাকা
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি
করেন তিনি।সৌদি আরবের আল-খার্জে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলা
চালিয়েছে ইরান। সেইসঙ্গে পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি
তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন আইআরজিসির এ কর্মকর্তা। তবে,
এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা
হয়নি।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক
অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ
আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর
শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন
দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু
করে ইরানও। আটদিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর
যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এরই মধ্যে ইরানের ওপর ভয়ংকর হামলা চালানোর
হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার (৭ মার্চ) রাতেই ইরানের
নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর হামলা চালানোর
জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের শীর্ষস্থানীয়
একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি
এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী
এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর
লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে।সেইসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও ঘোষণা
করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামনে কখনই আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।
৮ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৩৭:৩৭
ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানালো আরব আমিরাত
জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আগামী ২০ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। শারজাহ একাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির পক্ষ থেকে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একাডেমির পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাস এবার ৩০ দিনে পূর্ণ হতে পারে। সেই হিসেবে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের শুরু হবে শুক্রবার। খবর গালফ নিউজেরজ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, ১৮ মার্চ বুধবার (রমজানের ২৯তম দিন) চিরাচরিত নিয়মে চাঁদ দেখার রাতে পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্তের আগে চাঁদ ডুবে যাবে। ফলে ওই সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব না। এর অর্থ হলো, ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রমজানের ৩০তম দিন পূর্ণ হবে।পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) আমিরাত সময় ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। ওইদিন সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ১৪ ঘণ্টা ৬ মিনিট। দিগন্ত থেকে এর উচ্চতা হবে ৬ ডিগ্রি এবং সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত এটি আকাশে অবস্থান করবে।চাঁদের এই অবস্থান সত্ত্বেও একাডেমি জানিয়েছে, আরব আমিরাত থেকে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। সাধারণ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা টেলিস্কোপ দিয়েও এটি দেখা দুষ্কর হবে। আধুনিক প্রযুক্তি বা ইমেজ স্ট্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে হয়তো এর ছবি ধরা সম্ভব হতে পারে। তবে খালি চোখে চাঁদ দেখার কোনো সম্ভাবনা নেই।পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমিরাতের আরও পশ্চিমে অবস্থিত কিছু আরব ও ইসলামি দেশে চাঁদ দেখার পরিস্থিতি তুলনামূলক অনুকূল হতে পারে।এই গাণিতিক হিসাবের ভিত্তিতে একাডেমি উপসংহারে পৌঁছেছে, আরব আমিরাতসহ অধিকাংশ মুসলিম দেশে ২০ মার্চ (শুক্রবার) শাওয়াল মাসের শুরু এবং ঈদুল ফিতর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যেসব দেশ কঠোরভাবে খালি চোখে বা টেলিস্কোপে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, স্থানীয় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তাদের সেখানে ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদ হতে পারে।
৭ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:১৪:৩৫
বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী, সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়ল ৩০ শতাংশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত এক সপ্তাহে নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৮.৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।এর ফলে যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্বল তথ্যের কারণে শেয়ারবাজারেও পতন দেখা দিয়েছে।টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের পাল্টা হামলার ফলে বিশ্বের জ্বালানি ও পরিবহন খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হামলার ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম আজ ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া যুদ্ধ থামবে না বলে ঘোষণা করার পর এক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল।যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল চুক্তি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এক সপ্তাহে তেলের দাম বৃদ্ধির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই পথে সামুদ্রিক যান চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ।এদিকে দক্ষিণ ও উত্তর ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে একটি মার্কিন-পরিচালিত তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারণক্ষমতার অভাবে কুয়েতও তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে।দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির উচ্চমূল্য বজায় থাকলে পুনরায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়বে।
৭ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:০৯:১২
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর ‘অপেক্ষায়’ আইআরজিসি!
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, সেখানে তারা মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে।সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান বলছে, প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই তাদের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কোনো জাহাজকে তারা ছাড় দেবে না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তারা সেখানে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে। আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘আমরা তাদের উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছি।’ এর আগে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ঘোষণা দেন পরিস্থিতি অনুকূল হলেই হরমুজ প্রণাণি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে নাইনি আরও বলেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমেরিকানদের ১৯৮৭ সালে মার্কিন সুপারট্যাংকার ব্রিজেটন-এ আগুন লাগার ঘটনা এবং সম্প্রতি লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর কথা মনে রাখা উচিত।’ ১৯৮৭ সালে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে চলার সময় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের পেতে রাখা মাইনে আঘাত পেয়ে ব্রিজেটন ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শনিবার (৭ মার্চ) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। যে কোনো জাহাজ চাইলে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, তবে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেই বহন করবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে, আমরা সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করব।’ সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল, আল জাজিরা
৭ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:০৪:৩২
টর্নেডোর আঘাতে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ মিশিগান, নিহত ৪
শক্তিশালী টর্নেডো ও ঝড়ের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ মিশিগানে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক বাড়িঘর ও বড় বড় স্থাপনা পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আঘাত হানে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টর্নেডোর আঘাতে ব্রাঞ্চ কাউন্টিতে ৩ জন এবং ক্যাস কাউন্টিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, থ্রি রিভারস ও ইউনিয়ন সিটি এলাকায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ভবনের ছাদ উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার ধারের বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ ও সাইনবোর্ড উপড়ে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্যাস কাউন্টি কর্তৃপক্ষের মতে, অনেক জায়গায় বাড়িঘরের শুধু ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা টর্নেডো সতর্কতা জারি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই দুর্যোগ শুরু হয়। ঝড়ের কারণে কয়েক শত বাসিন্দা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। বর্তমানে স্থানীয় উদ্ধারকারীদল ও প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ‘রাজ্য জরুরি অপারেশন সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:৩৩:১০
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পাকিস্তান সেনাপ্রধানের জরুরি বৈঠক
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।শনিবার (৭ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে মূলত ‘সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক আগ্রাসন’ এবং এর প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, ইরান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে এবং যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে বিরত থাকবে।গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই চুক্তির আইনি ও কৌশলগত বাধ্যবাধকতার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে পাকিস্তানকে জড়াতে হতে পারে। এমন এক সময়ে এই আলোচনা হচ্ছে যখন কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলি হামলার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অম্ল-মধুর। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সীমান্ত অঞ্চলে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ কি শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থেকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে, নাকি সামরিকভাবে এই সংঘাতের অংশীদার হবে—তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:২৬:২৭
প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরান আর হামলা চালাবে না
প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর হামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। শনিবার (৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা না হয়, তাহলে সেসব দেশে আর আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:১৯:৩৩
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।ওয়াশিংটন জানায়, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান। তবে এই হামলায় দেশটির সরকার কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন।এদিকে গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার বলেন, ‘আমরা দেখছি যে এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার বড়াই করছেন।’ফ্লেচার বলেন, আমরা প্রযুক্তি ও বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখছি। মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে সব আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:১৭:১১
ইরানের ওপর এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ হবে আজ রাতে
ইরানের ওপর শনিবার (৭ মার্চ) রাতে এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম
বোমাবর্ষণ কর্মসূচি’
পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে আল জাজিরা।স্কট বেসেন্ট জানান, মার্কিন এ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোর ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর
করে দিচ্ছি।
এ সময় বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির
চেষ্টার’ অভিযোগ আনেন। এ প্রসঙ্গে
তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:৪৪:৪৫
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ২১৭
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ৭৯৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে দেশটিতে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ১২৩ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছিল লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।ইসরায়েল বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে লেবাননে প্রায় এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। হাজার হাজার সিরীয় শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলেও জানিয়েছে তারা।শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ‘বড় মানবিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউএনএইচসিআর।গত সোমবার ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর পর ইসরায়েলের সেনাবাহিনী লেবাননে বিমান হামলা শুরু করে।এদিকে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, লেবানন এখন এক বিপজ্জনক মুহূর্তের মুখোমুখি এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, যেখানে একটি মানবিক বিপর্যয় আসন্ন।তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে। তারা লেবাননের সীমান্ত বরাবর ভেতরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এই সংঘাত কেবল বৃদ্ধি পেতেই দেখা যাচ্ছে।
৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:২৪:৫৩
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক
রাডার ধ্বংস করেছে ইরান। এটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ
অংশ ছিল। রাডারটির মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের হামলায় জর্ডানের মুয়াফফাক
সালতি বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা এএন/টিপিওয়াই-২ রাডারটি ধ্বংস হয়। যুদ্ধ শুরুর প্রথম
দিকেই এই হামলা চালায় ইরান।স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আরটিএক্স কর্পোরেশনের
তৈরি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং এর সহায়ক সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। এই রাডারটি
যুক্তরাষ্ট্রের থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত
হয়ে থাকে।থিঙ্ক ট্যাংক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের তথ্য
অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।একটি হামলা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং আরেকটি ৩ মার্চ। দুটি
হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও রাডার ধ্বংসের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায়
আসে।ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সেন্টার অন মিলিটারি
অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রোবস্ট বলেন, হামলাটি সফল হয়ে থাকলে
এটি ইরানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সামরিক সাফল্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।থাড বা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স ব্যবস্থা
মূলত আকাশের উচ্চ স্তরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।এটি স্বল্প পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়টের
তুলনায় জটিল হুমকি মোকাবিলায় বেশি কার্যকর।রাডারটি অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের
দায়িত্ব অনেকটাই প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। তবে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের
মজুত ইতোমধ্যে কমে আসছে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।বিশ্বজুড়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি থাড ব্যবস্থা
মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও এ ব্যবস্থা রয়েছে। একটি থাড ব্যাটারির
দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রাডারের মূল্যই প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, এই ধরনের রাডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কৌশলগত সম্পদ এবং এর ক্ষতি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।এদিকে যুদ্ধের শুরুতে কাতারে মোতায়েন করা আরেকটি মার্কিন
রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণা সংস্থা জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজ
জানায়, ইরানের হামলায় এএন/এফপিএস-১৩২ নামের দূরপাল্লার সতর্কতা রাডারটি ক্ষতিগ্রস্ত
হয়।উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার
করে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়তি চাপের মুখে
পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উন্নত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে
পারে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৩১:২০
৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটের ফ্লাইট বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেখানকার আকাশপথে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। এর আগে, ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত রুটগুলোতে ফ্লাইট বন্ধ ছিল। এবার ৮ মার্চ পর্যন্ত তা বর্ধিত করা হয়েছে।শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। যাত্রীদেরকে তথ্যগুলো জানানোর অনুরোধ করে বিমান।বাতিল হওয়া রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত।সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যাত্রীদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী শিডিউল বা সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সূচি তছনছ হয়ে গেছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধপরিস্থিতির প্রভাবে ঢাকা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকাশপথের উত্তেজনা নিরসন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। যাত্রীদের নিয়মিত বিমানের কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।