যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় আজ (শুক্রবার) দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। ইসলামী ইতিহাসে একই সঙ্গে আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও কারবালার শোকাবহ স্মৃতির দিন ১০ মহররম।দিনটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ, দোয়া ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মরণে শিয়া সম্প্রদায় আজ পুরান ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।১৪৪৮ হিজরি সনের ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা আজ। ইসলামী ইতিহাসে দিনটি একই সঙ্গে আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও শোকের স্মৃতি বহন করে। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটি। ‘আশুরা’ শব্দের অর্থ দশম। মহররম মাসের ১০ তারিখে দিনটি পালিত হওয়ায় একে আশুরা বলা হয়।আশুরা ইসলামী ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। হাদিস অনুযায়ী, এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীরা ফেরাউনের নির্যাতন থেকে মুক্তি পান। এ ঘটনার স্মরণে শুকরিয়াস্বরূপ এই দিনে রোজা রাখার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইহুদিদের অনুসৃত প্রথার সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার আগের বা পরের দিনসহ আরও একটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।একটি সহিহ হাদিসে আশুরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখেন ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখছে। তিনি জানতে চাইলে তারা বলেন, এই দিনে আল্লাহ বনি ইসরাঈলকে শত্রুর কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন, তাই হজরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক নিকটবর্তী।’ এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও এই রোজা পালনের নির্দেশ দেন (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০০৪)।মুসলমানদের একটি বড় অংশ এই দিনে নফল রোজা পালন করেন। ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। নবী করিম (সা.) নিজেও এই রোজা পালন করেছেন এবং উম্মতকে তা পালনে উৎসাহিত করেছেন।কিন্তু ইতিহাসের নির্মম ঘটনাক্রমে, বহু বছর পর এই একই দিনে (১০ মহররম) ঘটে যায় কারবালা প্রান্তরে হৃদয়বিদারক ঘটনা। ৬১ হিজরির ১০ মহররমে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যসহ সঙ্গীরা শাহাদাতবরণ করেন।আশুরা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পৃথক বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথে চলার অনুপ্রেরণা দেয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি সবাইকে আশুরার শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।আশুরা উপলক্ষ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ, দোয়া ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অনেকে গতকাল (৯ মহররম) ও আজ নফল রোজা পালন করেছেন। শিয়া সম্প্রদায় কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মরণে তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।এ উপলক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।
১ দিন আগে
নতুন হিজরি বছর ১৪৪৮-এর সূচনায় ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে নতুন কিসওয়া (গিলাফ) পরানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১ মহররম) ভোরে মসজিদুল হারামে এই বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সৌদি আরবের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কাবার পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন করে পবিত্র কাবায় নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয়। পুরো কার্যক্রমে তদারকি করেন শাইখ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আল-সুদাইস।কাবার কিসওয়া তৈরির দায়িত্বে থাকা কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স এর দক্ষ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদদের একটি দল ১০ ধাপের বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কিসওয়া স্থাপন করেন। এ সময় পুরোনো কিসওয়া খুলে ফেলে কাবার চার পাশে নতুন কিসওয়া ধাপে ধাপে স্থাপন করা হয় এবং তা কাবার কোণা ও ছাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।নতুন কিসওয়া স্থাপনের সময় কাবার চারটি দিকের কাপড় আলাদাভাবে ওপরে তোলা হয়। এরপর তা পুরোনো গিলাফের ওপর বিছিয়ে বেঁধে ধীরে ধীরে নিচে নামানো হয়। একই সঙ্গে নিচের অংশ থেকে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয়। চারটি দিকেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।সব অংশ স্থাপন শেষে কিসওয়ার বেল্ট বা ‘হিজাম’ সেলাইয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। পরে কাবার বিভিন্ন পাশ ও কোণা ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সেলাই করে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা হয়। সর্বশেষ কাবার দরজার বিশেষ পর্দা স্থাপন করা হয়, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সময়সাপেক্ষ কাজ হিসেবে বিবেচিত।জানা গেছে, কাবার নতুন কিসওয়ায় মোট ৫৩টি স্বর্ণখচিত অলংকারযুক্ত অংশ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেল্টের অংশ, ঝুলন্ত অলংকার, ফানুস আকৃতির নকশা, দরজার পর্দার অলংকার, ইয়েমেনি কোণের বিশেষ অংশ এবং মিজাবের অলংকার।প্রতি বছর কয়েক মাস আগে থেকেই কিসওয়া তৈরির কাজ শুরু হয়। খাঁটি প্রাকৃতিক রেশমের কাপড়ে সোনালি ও রুপালি প্রলেপযুক্ত সুতা ব্যবহার করে কোরআনের আয়াত ও নান্দনিক নকশা সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়।ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি কিসওয়া পরিবর্তনের এই আয়োজন মুসলিম বিশ্বের কাছে গভীর তাৎপর্য বহন করে। এটি পবিত্র কাবার মর্যাদা, ইসলামি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা এবং দুই পবিত্র মসজিদের সেবায় সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।প্রতি বছরের মতো এবারও মহররম মাসের প্রথম দিনের ভোরে নতুন কিসওয়ায় সজ্জিত হয়ে নতুন হিজরি বছরকে বরণ করে নিয়েছে পবিত্র কাবা শরিফ।
১ সপ্তাহ আগে
তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে মঙ্গলবার সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ হাজি। বার্ষিক হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে এই জমায়েত হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত।ভোর থেকেই সাদা ইহরামে আবৃত হাজিরা মক্কার অদূরে অবস্থিত ৭০ মিটার উচ্চতার পাথুরে পাহাড় ও এর চারপাশের বিস্তীর্ণ সমভূমিতে অবস্থান নেন। কোরআন তেলাওয়াত ও নিবিড় প্রার্থনায় মশগুল হাজিদের দুই হাত তুলে কান্নাভেজা কণ্ঠে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ, দয়া, রহমত ও সুস্থতা কামনা করতে দেখা যায়। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে আত্মসমর্পণের এই দৃশ্য হজের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে পরিচিত।ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রতিটি মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ। হাজিদের কাছে কয়েক দিনের এই আনুষ্ঠানিকতা শুধু একটি সফর নয়, এটি আত্মিক পরিশুদ্ধি ও অতীত গুনাহ মোচনের এক অনন্য সুযোগ।লাখো হাজির এই বিশাল জনস্রোত সামলাতে সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফিল্ড টিম যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়।আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফার উদ্দেশে। সেখানে রাতযাপন করে তারা মিনায় প্রতীকী ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ’ অনুষ্ঠানের জন্য ছোট কঙ্কর সংগ্রহ করবেন। বুধবার থেকে মিনায় রমি ও কোরবানির কার্যক্রম শুরু হবে।সূত্র: গালফ নিউজ; আল আরাবিয়া, আল আউসাত
১ মাস আগে
পবিত্র হজের দিন আজ। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক’... ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।সৌদি আরবের মক্কায় চলমান হজের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে মিনার তাঁবু নগরীতে রাত্রী যাপন শেষে ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাত পর্বতের ময়দানে সমবেত হচ্ছেন হাজিরা। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) ফজর নামাজ আদায় করে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ উচ্চারণ করতে করতে পবিত্র আরাফাতের ময়দানে হাজির হচ্ছেন তারা। ইহরামের সেলাইবিহীন সাদা পোশাকে হাজিরা এদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত পবিত্র ময়দানে অবস্থান করবেন।হজ পালনের নিয়ত করার পর মক্কায় প্রবেশের আগে হাজিরা ইহরাম পরিধান করেন। পুরুষরা দুটি সাদা পোশাক এবং নারীরা শালীন পোশাক পরেন। ইহরামের এই বিশেষ পোশাক সমতা, নম্রতা ও ঐক্যের প্রতীক। এর মাধ্যমে জাতি, সম্পদ ও মর্যাদার ভেদাভেদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। গতকাল সোমবার (২৫ মে) হাজিরা প্রথমে তাওয়াফ আল-কুদুম সম্পন্ন করেন, অর্থাৎ কাবা শরিফে আগমনী তাওয়াফ করেন তারা। তাওয়াফের সময় মুসলমানরা ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে পবিত্র কাবা শরীফ সাতবার প্রদক্ষিণ করেন।এরপর হাজিরা সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার হেঁটে সাঈ সম্পন্ন করেন। সাঈ করার এই আচার নবী ইব্রাহিম (আ.) এর স্ত্রী হাজেরা তাঁদের ছেলে ইসমাইল (আ.) এর জন্য মক্কার মরু উপত্যকায় পানির অনুসন্ধানের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এরপর আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে সেখানে জমজম কূপের উদঘাটন ঘটে।এরপর হাজিরা মিনায় যান এবং সেখানে আজ রাতে অবস্থান করেন। তারা সারা রাত মিনায় ইবাদত-বন্দেগি করেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় জিকির ও তালবিয়া পাঠ করেন।মিনা থেকে হাজিরা প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফাত পর্বতের ময়দানে পৌঁছতে শুরু করেছেন আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে। তারা সেখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রার্থনা ও তওবা করে সময় কাটাবেন। নামাজ, কোরআন পাঠ, দোয়া ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করবেন তারা।আরাফাতের ময়দান তিন দিকে পাহাড়ঘেরা। প্রায় চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের একপ্রান্তে রয়েছে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এখানেই শেষ নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। হজের মূল অনুষ্ঠান হলো এই আরাফাত ময়দানে উপস্থিত থাকা। যদি কোনো হাজি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন, তাকেও অ্যাম্বুলেন্সে করে এখানে আনা হবে।এ বছর আরাফাতের ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন মদিনা মনোয়ারার সম্মানিত ইমাম ও খতিব শেখ আলী বিন আবদুর রহমান হুজাইফি। এদিন তিনি হজের খুতবা পাঠ ও নামাজ আদায়ে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন। আরাফাতের ময়দান থেকে এ বছর হজের খুতবা ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করা হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অনুমোদিত চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে হজের খুতবা। এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ ও উপস্থাপনা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন চারজন বাংলাদেশি গবেষক। তারা হলেন—ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তারা সবাই মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করা ও খুতবা শোনা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এটি কেয়ামত দিবসের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা এই দিনে রোজা রাখেন এবং ইবাদতে মগ্ন থাকেন।আগামীকাল সূর্যাস্তের পর হাজিরা ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে তারা পরের দিনের অনুষ্ঠানের জন্য নুড়ি পাথর সংগ্রহ করেন। এরপর মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন। হাজিরা এখানে আল্লাহকে স্মরণ করে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন।আগামী বুধবার (২৭ মে) মুজদালিফা থেকে হাজিরা মিনার জামারাতে গিয়ে শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এদিন পাথরের স্তম্ভে সাতটি নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা। হাজিদের পাথর নিক্ষেপের এই কার্যক্রম শয়তানের প্রলোভনকে প্রত্যাখ্যানের প্রতীক।এদিন হাজিরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় এবং পরে পশু কোরবানি করবেন। এ কার্যক্রম আল্লাহর আদেশ পালনে ইব্রাহিম (আ.) এর নিজ পুত্রকে উৎসর্গ করার ইচ্ছা এবং আল্লাহর কৃপায় অলৌকিকভাবে পশু জবাই হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। মুসলমানরা তিন দিন (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) পশু কোরবানি করতে পারেন।পশু কোরবানির পর পুরুষেরা মাথার চুল কামিয়ে ফেলবেন বা ছেঁটে নেবেন এবং নারীরা তাদের চুলের একটি ছোট অংশ কেটে ফেলবেন।এরপর হাজিরা মূল তাওয়াফ করার জন্য মক্কায় ফিরবেন। সেখানে তারা কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করবেন এবং এরপর সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার হেঁটে সাঈ করবেন।আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার হাজিরা আবারও মিনায় ফিরে তিনটি পাথরের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর হজের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে মিক্কায় ফিরে কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করবেন হাজিরা।
১ মাস আগে