নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২:৩০:২৩
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলাম গ্রহণের পর কোরআন মুখস্থ করে কারাম কিমের অনন্য দৃষ্টান্ত
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলাম গ্রহণের পর আরবি ভাষা শেখা এবং পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কারাম কিম। তাকে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থকারী প্রথম কোরিয়ান মুসলমান হিসেবে পরিচিত করা হয়।
ইসলাম গ্রহণের পর কোরআনকে হৃদয়ে ধারণ করার সংকল্প নেন কারাম কিম। আরবি ভাষা তার মাতৃভাষা না হওয়ায় হিফজের পথটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে দৃঢ় ইচ্ছা, অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ করেন।
কারাম কিম বলেন, হিফজ করা মোটেও সহজ ছিল না। একটি পৃষ্ঠা মুখস্থ করার আগে তিনি সেটি কয়েক ডজনবার পড়তেন। এরপর কোরআনের দিকে না তাকিয়ে বারবার তিলাওয়াত করতেন। একটি পৃষ্ঠা সম্পূর্ণ আয়ত্ত করতে কখনো কখনো আট ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করেছেন তিনি।
দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে সিউল সেন্ট্রাল মসজিদের তাকে নিয়মিত কোরআন মুখস্থ করতে দেখা গেছে। গভীর রাতে মসজিদে এসে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোরআন নিয়ে অধ্যবসায়ের সঙ্গে সময় কাটাতেন তিনি।
শুধু সিউল নয়, পবিত্র মদিনার মসজিদে নববীতেও একইভাবে কোরআন তিলাওয়াত ও মুখস্থ করার কাজে সময় দিয়েছেন কারাম কিম।
অবশেষে দীর্ঘ সাধনা ও অধ্যবসায়ের পর সম্পূর্ণ কোরআনের হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অমুসলিম-প্রধান দেশে একজন কোরিয়ান নাগরিকের কোরআন হিফজের এই যাত্রা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
কারাম কিমের এই গল্প শুধু কোরআন মুখস্থ করার গল্প নয়—এটি ভাষার বাধা অতিক্রম করে বিশ্বাস, অধ্যবসায় ও আত্মনিবেদনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।