রাকিবুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ : ৪ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ০৯:৫৮:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে নিজ কর্মস্থলে লক্ষ্মীপুরের নারীকে হাতুড়িপেটায় হত্যা: ঘাতক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নিলুফার ইয়াসমিন পারভীন (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী। গত বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সকালে নিজ কর্মস্থল একটি গ্যাস স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে এক কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীর হাতুড়ির আঘাতে তিনি প্রাণ হারান।
স্থানীয় প্রবাসী সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ফোর্ট মায়ার্সের ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ড ও হাইল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ের শেভরন (Chevron) গ্যাস স্টেশনে ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইয়াসমিন। প্রতিদিনের মতো সেদিন ভোরেও তিনি স্টোর খোলেন এবং ভিতরে নামাজে দাঁড়ান। সকাল আনুমানিক ৭টা ১৪ মিনিটে হামলাকারী স্টোরের দরজা খোলার চেষ্টা করে।
ঠিক সেই সময় ঘাতক যুবক স্টোরে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে সে বাইরে পার্ক করা ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। গাড়িতে হামলার শব্দ পেয়ে ইয়াসমিন নামাজ শেষ করে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং ভাঙচুরের কারণ জানতে চান। এতেই ঘাতক যুবক হিংস্র হয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘাতক যুবক অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তার হাতে থাকা বড় হাতুড়ি দিয়ে ইয়াসমিনকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। মাথায় অন্তত সাতবার হাতুড়ির প্রচণ্ড আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে ঘাতক স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম রোলবার্ট জোয়াকিন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ২৪ নম্বর জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। তবে এই হামলার পেছনে ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নাকি এটি কেবলই একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।
নিহত ইয়াসমিন পারভীন দুই মেয়েকে নিয়ে ফ্লোরিডায় বসবাস করতেন। তার স্বামী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তার দেশের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ১৮ নম্বর কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের ছোট বোন।
স্বজনরা জানান, ইয়াসমিন অত্যন্ত পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ নারী ছিলেন।
প্রবাসে সন্তানদের সচ্ছল ভবিষ্যতের জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করতেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী এবং ফ্লোরিডার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশি কনস্যুলেট এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।