নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৭ জুন ২০২৬ রাত ১১:৩৪:১৭
বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস: মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের শুভেচ্ছা
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি)-এর মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম আগামী ৯ জুন ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস’ উপলক্ষে দেশের মান অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন, পেশাজীবী এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সুরক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেছেন, এ বছরের প্রতিপাদ্য “Innovation, Trust and Sustainability: The Power of Accreditation” বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রযুক্তিগত দ্রুত পরিবর্তন, জটিল বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পণ্য ও সেবার প্রতি আস্থা বজায় রাখা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। অ্যাক্রেডিটেশন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে, বাজারে আস্থা সৃষ্টি করে এবং টেকসই উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মহাপরিচালক জানান, ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০০৬’-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড দেশের জাতীয় মান অবকাঠামো শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে অ্যাক্রেডিটেশন সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য ও সেবার গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিএবি বর্তমানে এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাক্রেডিটেশন কোঅপারেশন (APAC) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কোঅপারেশন (ILAC)-এর পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তির (MRA) পূর্ণ সদস্য হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে বিএবি কর্তৃক অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরি ও সার্টিফিকেশন বডির সনদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং বাণিজ্য সহজীকরণে সহায়তা করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (IAF)-এর পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও সনদ প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খাদ্য, পরিবেশ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পখাত উপকৃত হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দেশে হালাল কনফরমিটি অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ইসলামিক ফোরাম ফর হালাল অ্যাক্রেডিটেশন বডিজ (IFHAB)-এর সদস্যপদ গ্রহণ করেছে বিএবি। এর ফলে হালাল সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং হালাল পণ্য ও সেবার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালে গ্লোবাল অ্যাক্রেডিটেশন কোঅপারেশন ইনকরপোরেটেড (GLOBAC)-এর যাত্রা শুরু আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিএবি এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
শুভেচ্ছা বার্তায় মহাপরিচালক বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প ও সেবার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা, ভোক্তা সুরক্ষা এবং টেকসই শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন এখন একটি অপরিহার্য জাতীয় অগ্রাধিকার।
বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে তিনি দেশের অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও সর্বজনীন করার আহ্বান জানান এবং একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক বাংলাদেশ গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কামনা করেন।
পরিশেষে তিনি বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬-এর সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।