নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:২৯:৪৫
‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’য় ঢাবিতে হাজারও মানুষের ঢল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। শোভাযাত্রার এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার পর চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ রয়েছেন। এবারের শোভাযাত্রায় মোট পাঁচটি প্রধান প্রতীক বা মোটিফ রাখা হয়েছে। এগুলো হলো মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। প্রতিটি মোটিফ পৃথক বার্তা বহন করছে। এর পাশাপাশি রয়েছে মাছ, বাঘ, হরিণশাবক, ছাগল, ছাগলছানা, কাকাতুয়া ও ময়ূর।
মোরগ নতুন সূচনা, জাগরণ এবং আলোর আগমনের প্রতীক হয়ে অন্ধকার দূর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দোতারা বাঙালির লোকসংগীতের প্রাণ হিসেবে বাঙালির সাংস্কৃতিক শিকড়কে তুলে ধরে, পাশাপাশি বাউলশিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে সংগীতের মর্যাদার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। কাঠের হাতি লোকজ ঐতিহ্য, শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক। টেপা আকৃতির ঘোড়া গ্রামবাংলার সরল জীবন ও শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে এবং পায়রা সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও বৈশ্বিক শান্তির বার্তা বহন করে।
হাজার বছরের ঐতিহ্য আর বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিয়ে এসেছে পহেলা বৈশাখ। এ উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর শিকড়ের দিকে ফিরে তাকানোর এক মহতী লগ্ন। ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা পথ পেরিয়ে বাংলা নববর্ষ আজ যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা যেমন গৌরবের, তেমনি সংগ্রামের।
সকাল ৮টা থেকেই চারুকলা অনুষদের প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করে উৎসবপ্রিয় মানুষ। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বর্ণিল পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। চারদিকে ঢাক-ঢোল আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন ২০০ জন শিক্ষার্থী, যারা বহন করছেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনাও রয়েছে।
লাল ঝুঁটির বিশাল মোরগ, নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে কাঠের হাতি, শান্তির প্রতীক পায়রা, বড় দোতারা ও টেপা আকৃতির ঘোড়া শোভাযাত্রার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ছোট ছোট প্রতীকী উপকরণও যুক্ত হয়েছে শোভাযাত্রায়।
এদিকে শোভাযাত্রা ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুখোশ পরে প্রবেশ, ব্যাগ বহন, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। শোভাযাত্রা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। দোয়েল চত্বর, কার্জন হলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ পাবলিক টয়লেট।
নববর্ষ উপলক্ষ্যে চারুকলা অনুষদে সাংস্কৃতিক আয়োজনও রাখা হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তির দিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বকুলতলায় লোকসংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।