নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১২:২৯:৩১
শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে যে সব খাবার খাবেন
অল্প পরিমাণে, শরীরের জন্য উপযোগী, স্বাস্থ্যকর খাবারই আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আর এর জন্য দৈনন্দিন খাবারে প্রয়োজনীয় আমিষ, প্রোটিন, ভিটামিন সবই সঠিক পরিমাণে। সঠিক খাবার যেমন আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত শক্তি দিতে পারে, ঠিক তেমনি ভুল খাবার বা খাদ্যাভাস আপনার শারীরিক দুর্বলতার প্রধান কারণ হতে পারে। তাই আপনার হজম প্রক্রিয়াকে সাহায্য করতে এবং অলসতা প্রতিরোধ করতে সারাদিন ধরে কয়েকবার অল্প অল্প করে খাবার খান এবং খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটুন।
মাছ-মাংস ছাড়া এমন আরও কিছু খাবার আছে যা আপনার স্বাস্থ্য ও শরীরের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে থাকে। যেসব খাবার নিয়ম করে খেলে শক্তিশালী হয়ে ওঠে আপনার শরীর। চলুন স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী আপনার শরীরকে শক্তিশালী করে তোলে এমন কিছু খাবার ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। কেন তিসি গুঁড়া করে ব্যবহার করলে তা সুপারফুডে পরিণত হয়
প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন
প্রসেস করা ফুড বা প্রক্রিয়াজাত করা খাবার সবসময় এড়িয়ে চলুন। বাইরের বার্গার বা ফ্রাইস খেলে তা স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে। তবে এসব খাবারের পুষ্টিমান খুব কম। প্রক্রিয়াজাত খাবার - প্যাকেটজাত বা টিনজাত খাবার, বক্সযুক্ত খাবার, পূর্বে রান্না করে রাখা মাংস সাধারণত প্রিজারভেটিভ, অ্যাডিটিভ, সোডিয়াম, ট্রান্স ফ্যাট এবং কৃত্রিম উপাদানে পূর্ণ থাকে যা শরীরকে ধীর করে দেয়।
সতেজ মৌসুমি ফল ও সবজি খান
খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাবার রাখার চেষ্টা করবেন যাতে পুষ্টির পরিমাণ অন্য খাবারের চেয়ে বেশি থাকে। এর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত মৌসুমি বিভিন্ন ফলমূল খাদ্য তালিকায় রাখা। চেষ্টা করবেন যেন ফল সতেজ ও বিষমুক্ত থাকে। ঠিক একইভাবে রোজ সবজি রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।
চর্বিযুক্ত লাল মাংস ডায়েটে স্যাচুরেটেড ফ্যাট যোগ করে। অন্যদিকে মুর্গি, টার্কি এবং সামুদ্রিক মাছের মতো চর্বিযুক্ত মাংসাল খাবার মানসম্পন্ন প্রোটিন দেয় শরীরকে। তবে এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে কম। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ যেমন স্যামন, টুনাও ভালো বিকল্প এবং শরীরের জন্য উপকারী।
শস্যদানা এবং কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট
চিনি এবং সাদা ময়দা শরীরে সামান্য পরিমাণে পুষ্টি জোগায়। তবে খাবারের মাঝে আপনাকে শস্যদানা এবং কমপ্লেক্স কার্বেবোহাইড্রেট বেছে নিতে হবে রোজই। এগুলো আপনার খাদ্যে ফাইবার যোগ করে। বিভিন্ন শস্য যেমন চাল, ডাল, ভুট্টা, সয়াবিন, বিনস ও কড়াইশুঁটি থেকে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। তাই পরিমাণ মতো এগুলো আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ করুন।
বাদাম এবং বীজ
শারীরিক ক্লান্তি দূর করা ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাদাম এবং বীজ সেরা খাবার। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ রাখা স্বাস্থ্যকর। এসব আমাদের শরীরকে পুষ্টি ও শক্তি প্রদান করতে পারে। কাজু বাদাম, হ্যাজেলনাট, পেকান, আখরোট, সূর্যমুখী বীজ ও কুমড়ার বীজ অল্প পরিমাণে রোজ খেতে পারেন।
পানি
পানির অপর নাম জীবন। শরীরের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হচ্ছে পানীয় পানি। পানি ক্যালোরি আকারে শক্তি সরবরাহ করে না, তবে এটি শরীরে অন্য কাজগুলোকে সহজ করে। এ ছাড়া শরীর সুস্থ্ রাখতেও পানির বিকলাপ নেই।
ভিটামিন এবং অন্যান্য সম্পূরক খাবার
প্রতিদিনের খাবার থেকে প্রয়োজনীয় সব উপাদান পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর এ ঘাটতি পূরণ করতে ভিটামিন গ্রহণ করা জরুরি। একজন পুষ্টিবিদ বা হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করলে পুষ্টিকর পরিপূরক খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জানা যায় এবং পয়োজন মতো তা খাবারের মাধ্যমে বা সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
কলা
কলা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। কলায় পটাসিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা প্রাকৃতিক শক্তির একটি বড় উৎস।
ওটস
ওটস শুধু সকাল বা বিকেলের নাশতার জন্য নয়। এক বাটি ওটসে কিছু পরিমানে ফাইবার ও প্রোটিন থাকে। তাই ওটস আপনাকে শক্তি প্রদান করবে দীর্ঘ সময় ধরে।
ক্লান্তি দূর করতে কোন খাবারগুলো উপকারী
২০১৮ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম (CFS)-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নিম্নলিখিত পুষ্টি উপাদান এবং খাদ্য উৎসগুলো উপকারী হতে পারে:
ভিটামিন বি১২: ক্ল্যাম, মাসেল, কাঁকড়া, দুগ্ধজাতীয় খাবার, ডিম
ফলিক অ্যাসিড: গাঢ় সবুজ শাক, শিম জাতীয় খাবার, লেবু জাতীয় ফল
ভিটামিন সি: স্ট্রবেরি, কিউই, ক্যাপসিকাম, কমলালেবু, ব্রোকলি, টমেটো
ম্যাগনেসিয়াম: বাদাম ও বীজ, শিম জাতীয় খাবার, গোটা শস্য
জিঙ্ক: ঝিনুক, লাল মাংস, পোল্ট্রি, শেলফিশ, শিম জাতীয় খাবার
মনে রাখবেন, আপনার খাদ্যতালিকা সম্পর্কে সচেতন থাকা আপনার শারীরিক দুর্বলতা কমাতে এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি পেতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমও আপনার কর্মশক্তি বজায় রাখতে সহায়ক।
সূত্র : হেলথ লাইন