নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:০৩:২৯
খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি: মার্কো রুবিও
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি টানা এক মাস কার্যত অবরোধ করে রেখেছে ইরান। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অবরোধ অব্যাহত থাকলে শিগগিরই আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে মন্দাভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন সংকটকালীন মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর সরু নৌপথে ট্যাংকার জাহাজ চলাচলে সহায়তার আশ্বাস দিলেও তার প্রশাসন ‘সম্ভব নয়’ বলে জানায়। তবে আবারও বিশ্ববাসীকে আশার বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার (৩০ মার্চ) আলজাজিরাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে যে কোনো উপায়ে পুনরায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। এই আলোচনা সরাসরি না হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং এখনও সেটাই চান।
তবে তিনি ইরানের প্রতি কিছু শর্তও তুলে ধরেন। রুবিওর দাবি, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করা বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তৈরি।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবার চালু করা হবে, হোক তা ইরানের সম্মতিতে, অথবা যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমে।
বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এদিকে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের গুঞ্জনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য দেশটির সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়েছিল। গত বছর ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের কারণে এক দফা আলোচনা ভেস্তে যায়। এর সমাপ্তি ঘটে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার মাধ্যমে। পরে দ্বিতীয় দফায় কূটনৈতিক আলোচনা চলা অবস্থায় ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।