আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১০:২৬:১৭
জি-৭ দেশগুলো ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়বে
জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো আগামী চার মাসে তাদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। জি-৭ নেতারা এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জ্বালানি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন এবং অন্যান্য দেশগুলোকেও তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়ে ইউরোপকে তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে জ্বালানি ছাড় করার চাপ বৃদ্ধির পর জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে জি-৭ নেতারা আলোচনায় বসলে এই ঘোষণাটি সামনে আসে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই সাতটি দেশ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মাধ্যমে চার মাসে ১০ কোটি ব্যারেল সরবরাহ অবিলম্বে শুরু করতে সমন্বিত পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনের ভেতর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নেতারা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের দেশগুলোর মধ্যে ডিজেল রপ্তানির ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।
এক যৌথ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, আমরা জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি এবং জ্বালানি পণ্যের রপ্তানির কড়াকড়ি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি এবং সব উৎপাদনকারী দেশকে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি যা বাজারের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তারা আরও যোগ করেন, ‘জ্বালানির দাম নিয়ে আমাদের নাগরিকদের উদ্বেগ এখনও আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা সমন্বয় করতে প্রস্তুত থাকব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর যৌথ পদক্ষেপের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ম্যাক্রোঁ জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর (যার মধ্যে ব্রিটেন, জাপান, কানাডা, জার্মানি এবং ইতালিও রয়েছে) নেতাদের নিয়ে একটি জরুরি ভিডিও কনফারেন্স আহ্বান করেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন। জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য এই ঘোষণা ছিল একটি চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।