আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:২৫:২৮
প্রতিরোধ লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার
ইসরাইল-আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বলেছেন, তিনি ‘কুফর ও ঔদ্ধত্যের সামনের সারির দুই বাহিনী’র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবেন। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) আর্মি ডে উপলক্ষে টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
খামেনি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী ‘তাদের (ইসরাইলি-মার্কিন) দুর্বলতা ও অপমান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে’ এবং ‘আমাদের ড্রোনগুলো বজ্রপাতের মতো আমেরিকান ও জায়নিস্ট অপরাধীদের ওপর আঘাত হানছে’। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরানের সাহসী নৌবাহিনী শত্রুদের নতুন পরাজয়ের স্বাদ দিতে প্রস্তুত’।
খামেনি সাম্প্রতিক যুদ্ধকে ইরানের বিপ্লবী ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব থেকে শুরু করে আগের দুটি ‘আরোপিত যুদ্ধ’ হয়ে বর্তমান সংঘাত পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, সেনাবাহিনী বিপ্লবের পর থেকেই ‘নিজের সঠিক অবস্থানে’ রয়েছে এবং এটি ‘জনগণের হৃদয় থেকে উঠে আসা, সত্যিকারের জাতির সন্তান’।
বার্তায় তিনি তার পূর্বসূরি ও বাবা শহিদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাকে তিনি এমন একজন নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন, যিনি বিপ্লবের প্রথম দশক থেকেই সেনাবাহিনীকে টিকিয়ে রাখা ও শক্তিশালী করতে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই মুহূর্তে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে। যার মেয়াদ আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হবে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রায় পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এরপর গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে একটি শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা অংশ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা ব্যর্থ হয়। এখন নতুন করে আরও একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, আগামী বুধবারের (২২ এপ্রিল) মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে ইরানে আবার বোমা হামলা শুরু হতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী নিয়েও ফের উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল আম্বিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত নৌ অবরোধের কারণে প্রণালিটি পুনরায় ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণে’ নেয়া হয়েছে, যা কার্যত এটিকে আগের মতো উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক সদর দফতর জানায়, ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী ও বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে, যা আলোচনার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।