নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৫৮:৫৭
গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে মৃত্যু ঘটনায় ৪ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা
লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পড়ে অভিবাসন প্রত্যাশী সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় চার মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
৩০ মার্চ সোমবার রাত ১২টার দিকে দিরাই থানায় মামলাটি করেন নিহত সোহানুর রহমান এহিয়ার বাবা ছালিকুর রহমান।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানান, চারজনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলায় দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের হাফিজ সালেহ আহমদ (৩৫), দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের জসিম উদ্দিন (৪০), সুনামগঞ্জ সদরের আশরাফুল ইসলাম (৩৭) এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। বাদী ছালিকুর রহমান তিনজনের নাম নিশ্চিত করেছেন।
গত শনিবার লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি, যার মধ্যে ১২ জন সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার বাসিন্দা।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় তীব্র খাবার ও পানির সংকটে যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জনপ্রতি ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের লিবিয়া হয়ে গ্রিসে নেওয়ার কথা ছিল। নিরাপদ ও বড় নৌযানের প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তোলা হয়। যাত্রাপথে অনাহারে অনেকের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে বাদীর ছেলেও ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নুরুজ্জামান সর্দার (৩২), সাহান এহিয়া (২২), সাজিদুর রহমান (২৬), মুজিবুর রহমান (৪০), সুহানুর রহমান এহিয়া (২২), তায়েফ মিয়া (২৪); জগন্নাথপুর উপজেলার আমিনুর রহমান (৩৫), শায়ক মিয়া (২০), আলী আহমদ (২৩), ইজাজুল হক (২২), নাঈম আহমদ (২৪) এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ফাহিম অভ্র (২০)।