নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১২:৩৯:৩৯
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যা বলছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা চললেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের এখনো অর্ধেক মিসাইল উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা অক্ষত আছে। পাশাপাশি দেশটির হাজার হাজার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন এখনো তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে।
তবে অবশিষ্ট লঞ্চারগুলোর কিছু বর্তমানে ব্যবহারের উপযোগী নয়, কারণ বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে সেগুলো অপ্রবেশযোগ্য হয়ে আছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা তারা শেষ করে ফেলেছে।
এই মূল্যায়নের সঙ্গে ইসরাইলের পূর্ববর্তী দাবিরও মিল নেই। গত মার্চে ইসরাইল জানিয়েছিল, তারা ইরানের আনুমানিক ৪৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধ্বংস বা অকার্যকর করে দিয়েছে।
তবে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন ট্রাম্প ও ইসরাইলের এসব দাবিকে মিথ্যা প্রমাণিত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্থক্যের কারণ হতে পারে ‘অক্ষত কিন্তু ব্যবহারযোগ্য নয়’ — এমন লঞ্চারগুলোর শ্রেণিবিন্যাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, হামলায় প্রায় ২০০টি লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৮০টি কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এসব লঞ্চার ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত ছিল, যেখানে প্রবেশপথে বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলো অকার্যকর করা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে এখনো হাজার হাজার আক্রমণাত্মক ড্রোন মজুত রয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
একটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরান এখনো ‘পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা রাখে।’
তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, এসব তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে যৌথ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল অভিযানের সাফল্যকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে।