নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:৪২:১১
ইরানে আরও বড় হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ইরান যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালি এবং এ যুদ্ধ কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে হোয়াইট হাউসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে সামরিক অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এই ভাষণে যেমন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের হুঁশিয়ারি ছিল, তেমনি ছিল কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বার্তা দিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধে অগ্রগতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘গত চার সপ্তাহে আমাদের বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, চূড়ান্ত এবং অভাবনীয় বিজয় অর্জন করেছে। ‘সবসময়ই আমার প্রথম পছন্দ ছিল কূটনীতি, কিন্তু ইরানের শাসকগোষ্ঠী বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া চালিয়ে গেছে এবং চুক্তির প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের কাছে এমন কিছু অস্ত্র ছিল যা কেউ বিশ্বাসই করতে পারেনি। আমরা জানামাত্রই সেগুলো ধ্বংস করেছি।’
আলজাজিরার পর্যবেক্ষণ / জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পের ভাষা ছিল আক্রমণাত্মক
‘আমাদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট। আমরা পদ্ধতিগতভাবে আমেরিকার জন্য হুমকি হওয়া বা সীমান্তের বাইরে শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতাকে ভেঙে দিচ্ছি। এর অর্থ হলো ইরানের নৌবাহিনীকে নির্মূল করা, তাদের বিমান বাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অকল্পনীয় ক্ষতি করা এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি ধ্বংস করা। আমরা এর সবই করেছি। তাদের নৌবাহিনী নেই, বিমান বাহিনী শেষ, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রও প্রায় নিঃশেষ। ‘আজ রাতে আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের এই কৌশলগত মূল লক্ষ্যগুলো প্রায় অর্জন হয়ে গেছে।’
‘আমরা কাজটি শেষ করতে যাচ্ছি এবং খুব দ্রুতই শেষ করব। আমরা এর খুব কাছাকাছি আছি। আমি মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মিত্র ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইনকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা দুর্দান্ত এবং আমরা তাদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যর্থ হতে দেব না।’
হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধের সমাপ্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য
‘যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় কোনো তেলই আমদানি করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের এর প্রয়োজন নেই। বিশ্বের যেসব দেশ এই প্রণালি দিয়ে তেল আমদানি করে, তাদেরই এই পথটির দেখাশোনা করতে হবে। তাদের উচিত এই পথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।’
‘যাই হোক না কেন, যখন এই সংঘাত শেষ হবে, প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। তারা (ইরান) তেল বিক্রি করতে চাইবে, কারণ দেশ পুনর্গঠনের জন্য তাদের কাছে এছাড়া আর কিছুই নেই। আবারও তেলের প্রবাহ শুরু হবে এবং তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। স্টক মার্কেটের শেয়ারের দামও বাড়বে।’
‘আমরা খুব শিগগিরই আমেরিকার সব সামরিক লক্ষ্য পূরণের পথে রয়েছি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানব। তাদের প্রস্তর যুগে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত। এর মধ্যে আলোচনাও চলছে।’
‘ইরানের শাসনকাঠামো পরিবর্তন আমাদের লক্ষ্য ছিল না। আমরা কখনোই সেটা বলিনি। তাদের সর্বোচ্চ নেতাদের মৃত্যুর কারণে একটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এমনিতেই ঘটে গেছে। তারা সবাই মৃত। নতুন গোষ্ঠীটি কম উগ্র এবং অপেক্ষাকৃত আলোচনাযোগ্য।’
‘তবে যদি কোনো চুক্তি না হয়, আমাদের নজর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর রয়েছে। আমরা তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কঠোরভাবে এবং সম্ভবত একই সঙ্গে আঘাত হানব।’
‘আমরা তাদের তেলের ওপর এখনো আঘাত করিনি, যদিও তা সবচেয়ে সহজ লক্ষ্যবস্তু ছিল। কারণ এটি করলে তাদের টিকে থাকা বা পুনর্গঠনের সুযোগ থাকত না। আমরা চাইলে সেখানে আঘাত করতে পারতাম, তাতে এটি ধ্বংস হয়ে যেত এবং তাদের কিছুই করার থাকত না।’
‘ইরান ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে এবং তারা এখন আর আমাদের জন্য হুমকি নয়।’