নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ সকাল ০৯:৪৭:০৭
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসনের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের জনসমর্থন এখন সর্বনিম্ন ৩৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। মূলত যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও মার্কিন অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাবই ট্রাম্পের এই জনপ্রিয়তার পতনের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্সের।
জরিপে দেখা গেছে, গত সপ্তাহেও ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা যেখানে ৪০ শতাংশ ছিল, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে তা ৪ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতা নিয়ে সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে ট্রাম্প অর্থনীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করছেন।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আস্থা প্রকাশ করেছেন মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ, যা তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের যেকোনো সময়ের রেটিংয়ের চেয়েও কম।
প্রায় ৬৩ শতাংশ আমেরিকান বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতিকে ‘দুর্বল’ বলে মনে করছেন।
‘নির্বোধ যুদ্ধ’ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ট্রাম্পের ইমেজে বড় ধাক্কা দিয়েছে। জরিপ অনুযায়ী- প্রায় ৬১ শতাংশ আমেরিকান ইরানের ওপর হামলার বিরোধিতা করেছেন। ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকাকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে। অন্যদিকে, মাত্র ২৬ শতাংশ মনে করেন এই যুদ্ধ দেশটিকে নিরাপদ করবে।
যদিও রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো তুলনামূলক শক্ত, তবে সাধারণ ভোটার ও স্বতন্ত্রদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত কমছে।
ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির মতো চিরাচরিত রিপাবলিকান ইস্যুগুলোতে ট্রাম্পের এই ব্যর্থতা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত না কমলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও সংকটে পড়তে পারে।