আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৪:৩০:১২
রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিমুখে ঘোষিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এ সময় বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য—উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে কর্মসূচিতে অংশ নিতে হাজারো মানুষ যন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হন। তবে দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি এবং বড় ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। খবর এনডিটিভির।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করা হয়।
নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবা তীর্থসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন এবং অনেককে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়।
বিক্ষোভকারীরা নিট মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্য দিল্লির বেশকিছু এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে আন্দোলনের আয়োজক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়ানো যাবে না।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো মিছিল, সমাবেশ বা পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) একটি ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।