আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৬:১৮:৫৭
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ অর্থ অবমুক্ত করতে রাজি হয়নি: হোয়াইট হাউস
ইরানের জব্দ অর্থ অবমুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজি হওয়ার খবর নাকচ করেছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের একজন মার্কিন কর্মকর্তা
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রাক্কালে আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) রয়টার্স সংবাদ সংস্থা দিনের শুরুতে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদন মতে, ইরান সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় সমঝোতায় পৌঁছাতে এটি ‘গুরুত্বপূর্ণ আন্তরিকতার’ লক্ষণ বলে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’
আরেক ইরানি সূত্র জানায়, কাতারে রাখা ইরানের ৬০০ কোটি ডলারের জব্দ তহবিল ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ মন্তব্য পাওয়া গেলেও কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ইরানি ও মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার আয়োজনে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরই মধ্যে প্রাথমকি আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনাটি দ্বিপাক্ষিক এবং তা পাকিস্তানি ও আমেরিকানদের মধ্যে এবং আলাদাভাবে পাকিস্তানি ও ইরানিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
একবার সমস্ত দাবি ও শর্ত পূরণ হয়ে গেলে আলোচনাটি সম্ভবত একটি ত্রিপাক্ষিক কাঠামোতে গড়াবে। কর্মকর্তাদের মতে, তারা উভয় পক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন, কিন্তু তারা যে কাঠামোতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে, তা বেছে নেয়ার দায়িত্ব তাদেরই থাকবে।
জব্দ সম্পদ ছাড় ও লেবাননের যুদ্ধবিরতির ওপর নির্ভর করছে আলোচনা
ইসলামাবাদে আল জাজিরার প্রতিবেদক কিমবার্লি হালকেট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইসলামাবাদের পরিস্থিতি খুবই পরিবর্তনশীল এবং অনিশ্চিত। এখানে অনেক কিছু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দুই পক্ষ একেবারে ভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় এসেছে, আর চেষ্টা হচ্ছে মাঝামাঝি কোনো সমাধানে পৌঁছানোর।
সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস। বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন—আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি সামরিক প্রস্তুতি বাড়াবেন এবং বিষয়টি সামরিকভাবেই সমাধান করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে দুই পক্ষ আলোচনার খুঁটিনাটি ঠিক করার চেষ্টা করছে। ইরানের বড় শর্তগুলোর একটি হলো লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা, যেখানে ইসরাইলের হামলা এখনও চলছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের আটকে থাকা সম্পদ—১৯৭৯ সাল থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার স্থগিত আছে। শোনা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এসব সম্পদ ছাড় দেয়ার বিষয়ে কিছুটা রাজি হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাকে তুলনামূলক নিরপেক্ষ এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি সংঘাতে অনাগ্রহী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরানে প্রথম দফার হামলার সময়ও তিনি খুব বেশি সক্রিয় ছিলেন না।