নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১১:৪২:০৯
ইরানের নৌযান দেখলেই ধ্বংস: ট্রাম্প
দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে যেকোনো ইরানি 'ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট' ধ্বংস করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই এই অবরোধ কার্যত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান এই অবরোধকে 'অবৈধ' ও 'জলদস্যুতা' আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছে, তাদের বন্দর নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। নির্ধারিত সময়সীমা শেষে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ কার্যকর করলেও এর বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বড় যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। পরিস্থিতির প্রভাবে তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই অবরোধ সমর্থন না করার কথা জানিয়ে বলেছেন, তারা এ সংঘাতে জড়াতে চান না। জার্মানি ও স্পেনও এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। উভয় পক্ষই ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দোষারোপ করলেও তেহরান বলছে, তারা সমঝোতার খুব কাছাকাছি ছিল। এ অঞ্চলে চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।