নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ সকাল ১০:৪৬:৪৫
মেয়ের মৃত্যুতে সবার কাছে ক্ষমা ও দোয়া চাইলেন বাবা কায়সার হামিদ
মেয়ে কারিনা কায়সারের জন্য ক্ষমা ও দোয়া চেয়েছেন বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি বলেছেন, আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।
১৫ মে শুক্রবার লিভার ও ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
কারিনা কায়সেরের মৃত্যুর বিষয়টি তার বাবা কায়সার হামিদ ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
ফেসবুক পোস্টে কায়সার হামিদ লিখেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা (kaarina kaisar) একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন ধরেই কারিনা অসুস্থ বোধ করছিলেন। প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরবর্তীতে কারিনার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়েএবং তিনি ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ই-তে আক্রান্ত হন। কারিনার আগে থেকেই ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা ছিল। সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে। পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা শুরু করেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
চিকিৎসার শেষ মুহূর্তের বিষয়ে কায়সার হামিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন কিন্তু ওকে আর বাঁচানো গেল না।’
চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি ও চমৎকার অভিনয়ের মাধ্যমে কারিনা কায়সার তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন।