মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৭:১৫:২০
রহিমপুর ইউনিয়নে চাল ও প্রকল্প বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নে সরকারি ১৫ টাকার চাল বিতরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বণ্টনে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ‘১নং রহিমপুর ইউনিয়ন উন্নয়ন পরিষদ’-এর সমন্বয়কদের সঙ্গে প্যানেল চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য খুশবা বেগমের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ক্ষোভ ও অনিয়মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সমন্বয়করা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাল ও উন্নয়ন প্রকল্প বণ্টনে একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডকে বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, আর অন্য ওয়ার্ডগুলো বছরের পর বছর অবহেলিত থাকছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে।
বৈঠকে উঠে আসে, ধর্মপুর গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের জন্য প্রায় এক বছর আগে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ একই সময়ে অন্য একটি এলাকায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে স্পষ্ট বৈষম্য হিসেবে প্রতীয়মান।
বড়চেগ, জগন্নাথপুর, প্রতাপী, ছয়কুট, লক্ষ্মীপুর ও কাঁঠালতলি এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত কর প্রদান ও নাগরিক দায়িত্ব পালন করলেও উন্নয়ন ও ত্রাণ বণ্টনে তারা বারবার উপেক্ষিত হচ্ছেন। তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবনমানের সমস্যা যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না।
তথ্য অনুযায়ী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৪টি পরিবার চাল পেয়েছে, যেখানে অন্যান্য ওয়ার্ডে পেয়েছে মাত্র ২২টি পরিবার। একইভাবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ টন গম ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাকি ৮টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪ টন করে গম। এছাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালেঙ্গা এলাকায় একটি প্রকল্পে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ৩, ৪, ৫ নম্বর ওয়ার্ড ও মিরতিংগা এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প রাখা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সমন্বয়কদের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া সাজেল আহমদ বলেন, “ইউনিয়নের প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার কোনো এলাকায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও গুরুত্বপূর্ণ জনপদে একটি প্রকল্পও দেওয়া হয়নি। এতে উন্নয়নের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।”
ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. শাহান পারভেজ শিপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে পরে কথা বলবেন বলে জানান, তবে পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ বলেন, বরাদ্দের সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না, তবে স্থানীয় এক নেত্রীর কাছে বরাদ্দ বণ্টনের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, চাল বিতরণ ও প্রকল্প বণ্টনে কিছু ত্রুটি ছিল—এ বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সে বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি আরও জানান, আগামী বরাদ্দে পূর্বে বঞ্চিত চারটি ওয়ার্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে সকল ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।