মো. বনি আমিন, মনপুরা (ভোলা)
প্রকাশ : ৩ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:১৮:৫৮
আওয়ামী লীগ নেতাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব: ইউএনওকে আদালতের শোকজ
ভোলার মনপুরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বিতর্কিতভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুছাকে শোকজ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদেশ স্থগিত করে বিবাদীদের পাঁচ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মনপুরা সিভিল জজ আদালতে দায়ের করা মামলা নং-১৫/২০২৬-এর নথি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে মো. মাইনউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
মামলার নথিতে মাইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া, ফলাফল শিটে কাটাছেঁড়া করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা নষ্ট করার মতো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। তার নিয়োগ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তও চলমান রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করে ছমেদপুর বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মাইনউদ্দিন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এ নিয়োগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ইউএনও আবু মুছা হঠাৎ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কমিটির অন্য সদস্যদের অবহিত না করে এবং কোনো রেজুলেশন ছাড়াই এককভাবে সাময়িক বরখাস্ত থাকা মাইনউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। এতে কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।
এদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান মাইনউদ্দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসারের তদন্তাধীন রয়েছে।
আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল বিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মাইনউদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, অবৈধ প্রভাব বা লেনদেনের মাধ্যমে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও ইউএনও আবু মুছার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।