শামীম আহমেদ জয়, মতলব উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ রাত ০৭:৪৬:০০
প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মতলব উত্তরে শুরু সোলেমান লেংটার মেলা
প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুরে শুরু হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী সোলেমান লেংটার মেলা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে ৭ দিনব্যাপী মেলা শুরুর কথা থাকলেও ভক্তদের আগাম উপস্থিতির কারণে একদিন আগেই সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রতি বছরের মতো এবারও মেলায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মেলাকে ঘিরে মাদক বিক্রি, জুয়া ও অশ্লীলতার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দোকানপাট ও স্টল নির্মাণের পাশাপাশি ভক্তদের জন্য আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছে। মাজারের আশপাশে এবং পাশের এলাকাগুলোতে ঝুঁপড়ি তৈরি করে গাঁজার দোকান বসতে শুরু করেছে। কিছু স্থানে ইতোমধ্যে ক্রেতা ও সেবনকারীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে এ মেলায় অন্তত দুই হাজারের বেশি গাঁজার দোকান বসেছে। এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এছাড়া খানকাগুলোতে গান-বাজনার তালে নারী-পুরুষের অশ্লীল নৃত্যসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
তবে মেলা পরিচালনা কমিটির প্রধান লাল মিয়া বলেন, “লেংটা বাবার ভক্তরা যেসব আস্তানা তৈরি করেন, সেগুলোকে মাদক বিক্রির দোকান হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়।”
মেলার আগে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক বিক্রি, জুয়া, চাঁদাবাজি ও অশ্লীলতা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি।
মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ মসজিদের খতিব মাওলানা এনামুল হক বলেন, “মাদক, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা ইসলাম সমর্থন করে না। এসব কর্মকাণ্ড পরিহার করা উচিত।”
মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া বলেন, মাজারের বাইরের যেসব এলাকায় এসব কার্যক্রম চলছে, সেগুলো তার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, মেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য ও সিভিল পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “এ মেলার জন্য এখনো জেলা প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। অনুমোদন পেলে আইনশৃঙ্খলা সভা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, পীর ও সাধক হযরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ.) ওরফে লেংটা বাবার ওরস উপলক্ষে বাংলা চৈত্র মাসের ১৭ তারিখ থেকে প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করা হয়। তবে এবছর আনুষ্ঠানিক অনুমতির আগেই মেলা শুরু হওয়ায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।