কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১২:০৬:২৯
নাগেশ্বরীতে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক বন্ধ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে আরিফা আক্তার মিষ্টি (২৫) নামে দুই সন্তানের জননীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটি বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ গা ঢাকা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ফারাসকুড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী আরিফা আক্তার মিষ্টির প্রসব ব্যথা উঠলে গত ২৩ মার্চ তাকে নাগেশ্বরী সেন্ট্রাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেদিন রাতেই তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গাইনি বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে সার্জারি চিকিৎসক আমজাদ হোসেন অপারেশনটি করেন।
অপারেশনের পর নবজাতক সন্তান সুস্থ থাকলেও মিষ্টির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিবারের দাবি, অপারেশনের সময় তার পেটে প্লাসেন্টা (ফুল) রেখে সেলাই করা হয়, যার ফলে পরবর্তীতে তীব্র ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে রংপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ১০ এপ্রিল সেখানে পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট থেকে প্লাসেন্টা অপসারণ করা হয়। কিন্তু অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এবং ১১ এপ্রিল দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের লাশ ১২ এপ্রিল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাবার বাড়িতে রাখার পর স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে দাফন সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ৬ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিন সেন্ট্রাল ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের বাবা ফারুক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “গাইনি চিকিৎসকের পরিবর্তে অযোগ্য চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করানোর কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
স্বামী আলমগীর হোসেন বলেন, “অপারেশনের সময় গাফিলতির কারণে আমার স্ত্রীর এমন পরিণতি হয়েছে। দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের পরও তাকে বাঁচানো যায়নি।”
অভিযুক্ত ক্লিনিকের মালিক রাশেদ হোসেন ও আখের আলী দাবি করেন, স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ক্লিনিকটি আর পরিচালনা করবেন না।
অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক আমজাদ হোসেন বলেন, “যা হওয়ার হয়ে গেছে,”—এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এদিকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকও ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত চিকিৎসক গাইনি বিশেষজ্ঞ নন এবং তার পদবী নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।