রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬ রাত ০৬:১৬:২৬
চার দাবিতে শজিমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন
হামলায় জড়িতদের বিচার এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, ঘোষিত চার দফা দাবি আদায়ে তারা গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন।
হাসপাতাল ও রোগীর স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার নিহান নামের পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় গত সোমবার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটিকে রক্তও দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবার সকাল থেকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এসময় এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা ও তার নিকাব খোলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা মৃত শিশুর কয়েকজন স্বজনকে আটক করলেও রাত ১১টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চার দফা দাবি হলো— চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
ঘটনার পর বুধবার রাতেই হাসপাতালে উপস্থিত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) বগুড়া জেলা সভাপতি ডা. আফসারুল হাবিব রোজ। তিনি বলেন,
“হাসপাতালের ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিটি রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন থাকায় পরিস্থিতি অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে। মৃত শিশুর পরিবারের চারজন নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা ইন্টার্ন নারী চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলেছেন এবং তার নিকাব খোলার চেষ্টা করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন জানান, খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন,
“শিশুটির এক আত্মীয় প্রথমে চিকিৎসকের গায়ে হাত দেন এবং তার নিকাব সরানোর চেষ্টা করেন। এরপরই আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত আত্মীয়ও একজন শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বয়সও কম। ফলে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে।”
তিনি আরও জানান, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে পুনরায় কাজে ফিরেছেন।