তামিম হোসেন সবুজ, বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬ সকাল ১১:৫৩:৫৭
১৪ বছরের বৈষম্য দূরীকরণ ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে বেনাপোল বন্দর শ্রমিকদের কর্মবিরতি: এক মাসের আল্টিমেটাম
দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে একই মজুরিতে কাজ করেও ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ার প্রতিবাদে ১ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা।
ন্যায্য মজুরি, ঠিকাদারদের সঙ্গে স্বচ্ছ চুক্তি এবং সমন্বয়হীনতার অবসানের দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন ও বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিঃ নং-৮৯১ ও ৯২৫) ব্যানারে রবিবার সকালে যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শ্রমিক নেতারা জানান, বন্দরে ইকুইপমেন্টের মাধ্যমে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি টনে মাত্র ১৬ টাকা এবং ম্যানুয়াল হ্যান্ডলিংয়ে প্রতি টনে ১৮ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে।
গত ১৪ বছর ধরে এই হার অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রমের মূল্য বিবেচনায় বর্তমান মজুরি অমানবিক ও অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তারা।
শ্রমিকদের দাবি, ইকুইপমেন্ট হ্যান্ডলিংয়ে প্রতি টন মজুরি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা এবং ম্যানুয়াল হ্যান্ডলিংয়ে ১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ইনপোটার এর কাছ থেকে টন প্রতি পায় ৭৮ টাকা কিন্তু শ্রমিকদের হাতে আসে ১৫ টাকা।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সুস্পষ্ট চুক্তি এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান তারা।
কর্মবিরতির ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি সমাধানে বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করে।
শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক।
আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক মাস সময় প্রার্থনা করে।
শ্রমিক নেতারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শ্রমিকরা আরো বলেন, “দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে আমরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করছি। কিন্তু আমাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হয়নি। জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও মজুরি একই জায়গায় আটকে আছে।
শ্রমিকদের এ আন্দোলন বন্দরকেন্দ্রিক শ্রম ব্যবস্থাপনা, মজুরি কাঠামো এবং শ্রমিক কল্যাণ প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দ্রুত সমাধান করা হোক এমনটাই দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।