বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:৫২:০৭
বাহুবলে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২, আটক ১
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর, আরিছপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আদিত্যপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে সেলু মিয়া (৫৩) এবং একই গ্রামের হেলাল মিয়া (৩৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই গ্রামের মাঝামাঝি একটি কবরস্থানের পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে আরিছপুর, আব্দাফৌজদা ও কাসেরগাঁও গ্রামের মোশাহিদ মেম্বার পক্ষের সঙ্গে আদিত্যপুর গ্রামের নাসির ও আক্তার পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, টেটা, রামদা, লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরে বাহুবল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ৮টার দিকে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয়।
তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ডুবাঐ বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত সেলু মিয়াকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত হেলাল মিয়াকে সিলেটে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), সিমন (১৮) ও হান্নান (৫০)সহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিশোধমূলক হামলা বা লুটপাটের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”