সিদ্দিকুর রহমান মাসুম, বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ রাত ০৮:২৬:২০
বাহুবলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্যাংকি ফেটে দুর্গন্ধের রাজত্ব, নাক-মুখ চেপে চলছে পাঠদান
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে টয়লেটের ট্যাংকি ফেটে থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ দিন দিন অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে এবং শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে।
এ ঘটনায় সোমবার (১৫ জুন) শিক্ষার্থী অভিভাবক মো. ফরিদ মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত টয়লেট থেকে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত নতুন ওয়াশরুম থাকলেও প্রধান শিক্ষক সেটি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে শিশুদের দুর্গন্ধযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে টয়লেট সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় জানালা বন্ধ করে এবং নাক-মুখ চেপে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, “আমরা প্রধান শিক্ষককে বলেছি, উন্নতমানের চেয়ার-টেবিলের আগে বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিক্ষার উপযোগী করা জরুরি। পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিবছর বরাদ্দ আসে, সামান্য ব্যয় করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিভাবক আকতার হোসেন বলেন, “তৃতীয় শ্রেণির কক্ষের পাশেই ট্যাংকি থাকায় দুর্গন্ধে বাচ্চারা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না। জানালা বন্ধ করে নাক চেপে ক্লাস করতে হচ্ছে।”
অভিভাবক ফরিদ মিয়া বলেন, “বহুবার নতুন ওয়াশব্লক খুলে দিতে বলেছি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিজেই সেটি ব্যবহার করেন, শিক্ষার্থীদের পাঠান ভাঙা টয়লেটে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, “নতুন ওয়াশ ব্লকের কাজ শুরু করেছি।”
তবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রমেন বিশ্বাস জানান, “ছয় মাস আগেই ওয়াশ ব্লকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, “আমি ট্রেনিংয়ে থাকায় বিষয়টি জানতে পারিনি।”
এদিকে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।