ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:১৪:৩৩
ভৈরবে হত্যার ঘটনায় পুরুষশূন্য গ্রাম, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক যুবককে হত্যার জেরে পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে গ্রামটি কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামে। গত ২৩ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবার জন্য মিনিট কার্ড আনতে গিয়ে পাগলা বাড়ির ইছা মিয়ার ছেলে ইমান খান (১৯) প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় শেখ বাড়ির লোকজনকে দায়ী করে ২৬ মার্চ ৭৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা।
মামলার পর থেকেই শেখ বাড়ির পুরুষ সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলে পুরো এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। এ সুযোগে পাগলা বাড়ির লোকজন শেখ বাড়ির বিভিন্ন পাড়ায় অন্তত ৫০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে লুন্দিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বাড়ির দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, টিনশেড ঘরের চালা পর্যন্ত নেই। কোথাও কোথাও ইট খুলে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। পুরো এলাকা জনশূন্য ও ভয়ার্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৭-৮ বছর ধরে পাগলা বাড়ি ও শেখ বাড়ির মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগেও কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। এবার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
ক্ষতিগ্রস্ত শেখ বাড়ির নারী সদস্য মরজিনা বেগম ও রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, “একটি হত্যার ঘটনার জেরে রাতের অন্ধকারে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু পর্যন্ত নিয়ে গেছে। আমরা এখন নিঃস্ব।”
নিহতের বাবা ইছা মিয়া বলেন, “একটি মিনিট কার্ড আনতে পাঠিয়েছিলাম ছেলেকে। সে লাশ হয়ে ফিরেছে। এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আমি দোষীদের ফাঁসি চাই।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ৩০ মার্চ বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পর পাল্টাপাল্টি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ জানান, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। পাশাপাশি লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বর্তমানে এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।