কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২ মে ২০২৬ রাত ০৯:২৭:০১
বৃষ্টি-ঢলে বিপর্যস্ত কিশোরগঞ্জ হাওর, ৯ হাজার হেক্টরের বেশি ধান তলিয়ে গেছে
টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি প্লাবিত হওয়ায় জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টরে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়।
শনিবার (২ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান ডুবে গেছে। শুধু ইটনা উপজেলাতেই প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধান কাটার শেষ সময়ে এমন দুর্যোগে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেকেই কাটা ধান শুকাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে ধানে চারা গজানো ও পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৬ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে ৩.০৬ মিটার, চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৭৩ মিটার এবং অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৪৫ মিটারে পৌঁছেছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১.৮০ মিটারে নেমেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বর্তমানে সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ১০৯ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ড. সাদিকুর রহমান জানান, মাঠপর্যায়ের সর্বশেষ তথ্যমতে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির মাত্রা বেশি। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।