আহমেদ স্বপন, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৮ মে ২০২৬ রাত ০৯:১৫:১৮
মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার মাস্টারমাইন্ড ফিলসন গ্রেপ্তার
শুক্রবার (৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান।
গ্রেপ্তারকৃত আখতারুজ্জামান ফিলসন কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা ও একটি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৪ নভেম্বর দায়ের হওয়া প্রথম সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার ১২ নম্বর এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি মুজিবনগর থানায় দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলার এক নম্বর আসামি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন ফিলসন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে অর্থ পাচার, বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন এবং ফেসবুক ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দ্রুত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে ফেলতেন তিনি।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে মেহেরপুর ডিবি পুলিশ ও কোমরপুর পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে একই মামলার আরেক আসামি জামান উদ্দিন ওরফে জামান মাস্টারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় ফিলসনের বাড়িতেও অভিযান চালানো হলেও তিনি পালিয়ে যান।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযানের পরদিন কোমরপুর বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকানে বসে ঘটনাটি নিয়ে কথাবার্তা বলতে দেখা যায় তাকে। এরপর থেকে নিয়মিত বাড়িতে না থাকলেও আত্মগোপনে থেকেই অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিং কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র চার বছর আগেও ট্রাকচালক ছিলেন আখতারুজ্জামান ফিলসন। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সিমকার্ড সরবরাহে সিম কোম্পানির প্রতিনিধি, জুয়াড়ি ও স্ক্যামারদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে সম্প্রতি কোমরপুর বাজারে সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক হন ফিলসন। অবৈধ লেনদেনের জন্য পাবনা জেলার একটি বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের একটি শাখা ব্যবহার করতেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া মেহেরপুরজুড়ে বর্তমানে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় সহস্রাধিক বাংলালিংক, এয়ারটেল, গ্রামীণফোন ও রবি সিম ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এসব সিমের অন্যতম বড় জোগানদাতা ছিলেন ফিলসন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
জেলা ডিবির ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরি জানান, গ্রেপ্তারের সময় ফিলসনের কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে অনলাইন জুয়া পরিচালনা কিংবা মানি লন্ডারিংয়ের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে নতুন মামলা করা হবে। বর্তমানে তাকে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা ও রাজনৈতিক মামলার পলাতক আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।