শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াত প্রার্থীও
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৬:১১:৪৯
সর্বমহলের ভালোবাসায় সিক্ত ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
বিশাল ভোটের ব্যবধানে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা আর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় সিক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা নবনির্বাচিত এমপি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
শনিবার কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো: মনিরুজ্জামান বাহলুল তাঁর নেতাকর্মীদের নিয়ে গুলশানের বাসভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে বাসভবনে আসায় ড.মোশাররফ জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামান বাহলুলকে ধন্যবাদ জানান। এই সময় ড. খন্দকার মোশাররফের পুত্র বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মারুফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত ফলাফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী, ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন ৫৯,৮০৬ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নিয়ে তিনি ৫ম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
বৃহস্পতিবার ফলাফল ঘোষণার পর থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দাউদকান্দির গ্রামের বাড়ি গয়েশপুরে ‘শান্তির নীড়’ বাসভবন এবং রাজধানীর গুলশানে বিলকিস ভিলায় দলীয় নেতাকর্মী, নানা শ্রেণি-পেশার সুহৃদ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীদের গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন। সবাই ড.মোশাররফকে বিপুলভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান,দোয়া করেন। ফুলে ফুলে আচ্ছাদিত হয়ে যায় তাঁর দাউদকান্দির গয়েশপুরের ‘শান্তির নীড়’ ও গুলশানের বিলকিস ভিলা। ড. মোশাররফ ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখ্য, ধানের শীষের প্রার্থী ড.মোশাররফ দাউদকান্দি উপজেলার ১০৭টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত সরকারী ফলাফলে প্রাপ্ত ভোট ১,০১,৩৯৪ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মনিরুজ্জামান বাহলুলের প্রাপ্ত ভোট (দাড়িপাল্লা) ৭৩,৩৩৯ ।
মেঘনা উপজেলায় মোট ৩৮ কেন্দ্রের সরকারি ফলাফলে বিএনপির ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেনের (ধানের শীষ) প্রাপ্ত ভোট ৩৮,৯১১ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মনিরুজ্জামান বাহলুলের প্রাপ্ত ভোট ১৭,১৬০। ড. মোশাররফ দুই উপজেলায় মোট ১৪৫টি কেন্দ্রে সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ১,৪০,৩০৫। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল পেয়েছেন ৯০,৪৯৯ ভোট।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই আসন থেকে ১৯৯১,১৯৯৬,১৯৯৬(১৫ ফেব্রুয়ারী) ও ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৩ মেয়াদে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ড. মোশাররফ (১৯৯১-৯৬) মেয়াদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী, ১৯৯৬ সালে স্বল্প মেয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং (২০০১-২০০৬) মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হিসাবে সফল দায়িত্ব পালন করেছেন।
ড.মোশাররফ দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষার আন্দোলনে সর্বদাই বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের বিরুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা রেখেছেন। ফলে তিনি আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে বেশি জুলুম ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তিনি আওয়ামী সরকারের দায়েরকৃত মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় প্রায় ৫ বছর বিনাবিচারে কারাবন্দী ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এই বিশাল বিজয় অর্জনের অন্যতম নায়ক হচ্ছেন, তাঁর পুত্র বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। ড. খন্দকার মারুফ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পুরো সময়টাই দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। ভোটারদের কাছে টেনেছেন,উদ্বুদ্ধ করেছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। নেতাকর্মীগণ ড. খন্দকার মারুফ হোসেনকেও বিপুলভাবে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন।