মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ মে ২০২৬ বিকাল ০৩:৩৫:৩৮
মে দিবস: চা শ্রমিকের ঘামে চা উৎপাদন বাড়লেও কাটেনি দারিদ্র্যের অন্ধকার
প্রকৃতির সবুজ চাদরে মোড়ানো চা বাগান শুধু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী নয়, বরং প্রায় ২০০ বছর ধরে এখানে বসবাসরত শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমের ক্ষেত্র। প্রতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও চা শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মে দিবস এলেও তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও ভূমির অধিকার আজও অধরা রয়ে গেছে।
বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে, যার মধ্যে ৯৭টিই মৌলভীবাজার জেলায়। এসব বাগানে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু হাড়ভাঙা পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন মজুরি বৈষম্যসহ নানা বঞ্চনা। বাগানের ভেতরে ও বাইরে সমানতালে কাজ করা এসব শ্রমিকের অর্ধেকই নারী।
প্রেমনগর চা বাগানের শ্রমিক গোপাল রবিদাস আক্ষেপ করে বলেন, “মে দিবস আসে আর যায়, কিন্তু আমাদের কোনো উন্নতি নেই। আজও ১৮৭ টাকা মজুরিতে সংসার চালাতে হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে, কিন্তু আমাদের জীবনের মান বদলাচ্ছে না।”
একই বাগানের শ্রমিক নয়নমনি রবিদাস বলেন, “প্রায় ২০০ বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করার পরও আমরা আজ পর্যন্ত আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো পাইনি। নিজস্ব ভূমিহীন অবস্থায় যাযাবরের মতো আমাদের জীবন কাটছে।”
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ বলেন, চা শ্রমিকরা যুগ যুগ ধরে বাগানে আবদ্ধ হয়ে আছে। মে দিবসের চেতনায় তাদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করেন তিনি।
শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসাইন জানান, বর্তমানে চা শ্রমিকরা দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা আরও জোরদার করা হবে।