মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৯ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১:১১:৩৮
‘দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়াকে ফাঁসাতে দেয়া হয় জঙ্গি ট্যাগ’
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিরাপত্তা ন্যারেটিভ, সাজানো জঙ্গি অভিযান ও বিচার ব্যবস্থার অপচর্চা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বক্তারা। একই সঙ্গে মৌলভীবাজারের কৃতি সন্তান মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো প্রত্যাহার করে তাকে মুক্ত জীবনে সম্মানের সঙ্গে স্বপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে “মেজর জিয়াউল হক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ”-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মেজর জিয়ার পরিবারের সদস্য ও তার সহকর্মী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নানা তথ্য তুলে ধরেন এবং আবেগঘন বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, মেজর জিয়াউল হক একজন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা, যিনি বিগত সরকারের সময়ে নৃশংস চরিত্রহননের শিকার হয়েছেন। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর একপর্যায়ে তাকে গুম করা হয়। পরবর্তীতে তিনি নিজ বুদ্ধিমত্তায় সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। ওই সময় জীবন রক্ষার্থে তাকে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য করা হয়।
তারা আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক ‘সাজানো’ মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মেজর জিয়াকে ফাঁসাতে তাকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নেতা হিসেবে প্রচারণা চালানো হয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মেজর জিয়াউল হকের ফুফু নুরজাহান শুয়ারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জিয়া মৌলভীবাজারের গর্ব, একজন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।”
এছাড়া বক্তারা মেজর জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের সুরাহার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ রুহুল আমিন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কবি সুফি চৌধুরী। এ সময় বক্তব্য রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, কূটনৈতিক সাকিল আলী, মেজর (অব.) মুজাহিদ মনির, সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, ড. মোহাম্মদ আবু তাহের, মোস্তাক আহমেদ মম, মেজর (অব.) জামাল হায়দার, লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান এবং ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে “মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদ”-এর ব্যানারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।