চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১:৩৭:১৫
সাংবাদিকদের নিয়ে বিএনপি নেতার ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য: থানায় জিডি
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের নিয়ে প্রকাশ্যে ‘কুরুচিপূর্ণ ও বিরূপ’ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদে তাকে বিবাদী করে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে চরফ্যাশন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার মাহমুদ নিয়াজ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ হলরুমে নবাগত ইউএনও’র যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া। অভিযোগ রয়েছে, বক্তব্য চলাকালে তিনি উপজেলার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে ওই বক্তব্যের ভিডিও তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা সাংবাদিক সমাজের মর্যাদাহানির কারণ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার মাহমুদ নিয়াজ বলেন, “অভিযুক্তকে তার বক্তব্যের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ জবাব দিতে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি জবাব না দিয়ে উল্টো সামাজিক মাধ্যমে আবারও উস্কানিমূলক পোস্ট করেছেন। এ ধরনের ঢালাও ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং নিন্দনীয়।”
এদিকে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া এমন ব্যক্তিগত আক্রমণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ ধরনের মন্তব্য আসতে পারে।
ঘটনার পর চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্ত নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দল কখনোই কারো ব্যক্তিগত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যকে সমর্থন করে না। এটি তার ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে।”
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান জানান, “প্রেসক্লাব সভাপতির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”