নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১২:২৪:৫১
লেবাননে নিহত দিপালি: ফরিদপুরের বাড়িতে শোকের মাতম
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর চরের বুকে বাড়ি দিপালী খাতুনের (৩৪)। অনেক কষ্টে যোগাড় করা টাকাপয়সা দিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন লেবাননে। সেখানে ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননের বৈরুতের হামরা এলাকায় ইসরায়েলের ছোঁড়া মিসাইলের আঘাতে নিহত হন তিনি। বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহত দিপালী খাতুন ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চর শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। বাবা বেঁচে থাকলেও মা তিন থেকে চার বছর আগে বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, দিপালী গত ২০১৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে লেবাননে যান। এরপর থেকে তিনি লেবাননে স্থায়ীভাবেই থাকা শুরু করেন। দিপালী শেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন পরে ২০২৪ সালের প্রথম দিকে আবার লেবাননে চলে যান।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিপালীর নিহতের সংবাদ বাড়িতে আসার পর থেকেই চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধ বাবা মোফাজ্জেল বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
দিপালী খাতুনের ছোট বোন লাইজু খাতুন বলেন, গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমার বড় বোন দিপালী খাতুন লেবাননে যান। সেখানে তিনি একটি বাসায় কাজ করতেন। সবশেষ ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে বোনের সঙ্গে শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার ফোনে ও ইন্টারনেটে পাইনি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলেও তার মোবাইলের সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান লাইজু খাতুন। তিনি বলেন, আমার বোন লেবাননে যেখানে থাকতেন তার বাসার পাশে একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা ও বিকাশে দেশে টাকা পাঠাতেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে বোনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়।
দিপালীরা তিন বোন ও দুই ভাই। তিনি অবিবাহিত ছিলেন বলে জানা গেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।
চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এই ঘটনা জানার পরেই সকালেই তাদের পরিবারের কাছে যায়। পরিবারের সকল সদস্য দিপালীর মৃত্যুর খবরে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে অতি দ্রুত তার লাশ বাংলাদেশি নিয়ে আসা হবে।
চরভদ্রাসন উপজেলায নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, আমরা ঘটনা জানার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে আমরা কাগজপত্র পেলেই মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।