হীরা আহমেদ জাকির, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:০২:১৩
বিজয়নগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিএনজি ভাড়ায় নৈরাজ্য, ভোগান্তিতে যাত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা থেকে জেলা শহরে যাতায়াতের অন্যতম সড়কটিতে সিএনজি ভাড়াকে কেন্দ্র করে চরম নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ভাড়া তালিকা কার্যকর না থাকায় চালকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন, ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষের বসবাস বিজয়নগর উপজেলায়। জেলা শহরের পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরাসরি যোগাযোগের জন্য চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের লক্ষীপুর (পত্তন ইউনিয়ন) থেকে শিমরাইলকান্দি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কেই এখন ভাড়া নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিএনজি ভাড়া নির্ধারণের চেষ্টা করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাছিবুর রহমানের উপস্থিতিতে সিএনজি কমিটি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ভাড়া কমানোর বিষয়ে একমত হন। পরে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও তৎকালীন জেলা প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সমন্বয়ে ভাড়া ২০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হকের উদ্যোগে টুকচাঁনপুর সিএনজি স্টেশনে বৈঠক করে ঈদের পর থেকে ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বাস্তবে কিছু স্টেশনে ১০ টাকা কমানো হলেও অধিকাংশ স্থানে পুরোনো ভাড়াই বহাল রাখা হয়। বর্তমানে আবারও আগের ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিজয়নগর ও শিমরাইলকান্দি এলাকায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা মনগড়া ভাড়া নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা হলে সিএনজি চলাচল বন্ধ করে যাত্রীদের চাপে ফেলে নিজেদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া নিয়ে প্রায়ই চালকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তবে সিএনজি চালকদের দাবি, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির কারণে তাদের খরচ বেড়েছে। কম ভাড়ায় চলাচল করলে দিন শেষে আয়-ব্যয় সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, “সিএনজি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ঈদের পর ভাড়া কমানোর বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল। যাত্রীদের আপত্তি থাকলে প্রশাসনকে জানানো উচিত। ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণ করা ঠিক নয়।” তিনি আরও জানান, নতুন ইউএনও যোগদান করেছেন, তার সঙ্গে আলোচনা করে যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ অবস্থায় দ্রুত নির্দিষ্ট ভাড়া তালিকা প্রণয়ন ও কঠোরভাবে তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন মহল।