নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১:৫৬:১১
৫ শিক্ষার্থীর জন্য ৪ শিক্ষক, তবুও স্থবির পাঠদান
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ দীর্ঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষার নিম্নমান এবং নানা অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলার ৪ নম্বর দীর্ঘা ইউনিয়নের ১৮২ নং দক্ষিণ দীর্ঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের দরজায় তালা, ভাঙা টিনের বেড়া, কক্ষের ভেতরে পড়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী। একটি কক্ষে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে কয়েকটি বেঞ্চ। পাশেই রয়েছে একটি গরুর গোয়ালঘর, যা শ্রেণিকক্ষের তুলনায় বেশি পরিচ্ছন্ন। এমন পরিবেশে আদৌ পাঠদান হয় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, রবিবার (১২ এপ্রিল) বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি থাকলেও ওই বিদ্যালয়ে নিয়ম ভঙ্গ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র পাঁচজন। এত কম শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই এমন অব্যবস্থাপনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি গরুর খামার। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পণ ঘরামী জানায়, “আমরা ক্লাসে মাত্র ২ জন। প্রথম শ্রেণিতে ১ জন, অন্য শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। ম্যাডামরা সাধারণত সকাল ১০টায় আসেন, দেড়টার দিকে চলে যান।”
বিদ্যালয়ের দপ্তরির দায়িত্বে থাকা মিতু নামের এক নারী বলেন, “আজ স্কুল খোলা না বন্ধ—আমি জানি না। প্রতিদিনের মতো আজও পতাকা উত্তোলন করেছি। স্কুলে শিক্ষার্থী কম। শিক্ষকরা বিকেল ৩টা বা সাড়ে ৩টার দিকে যান। স্থানীয় নিহার ঘরামী (কালু) স্কুলের ভেতরে গরুর ঘর তৈরি করেছেন।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বনানীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম হাসান বলেন, “ছুটির দিনে পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে লিখিত জবাব চাওয়া হবে। আমি নিজে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়গুলো তদন্ত করবো। শিক্ষার্থী কম থাকার বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলায় জানানো হয়েছে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “ছুটির দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্কুল বন্ধ রাখা পতাকার অবমাননার শামিল। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের পাশে গরুর খামার ও শিক্ষার্থী সংকটসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।