নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ বিকাল ০৩:১২:১৯
নরসিংদীতে আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
১৬ জুন মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত অনিক দড়িগাঁ এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে। তিনি স্থানীয় নাজিম উদ্দিনের অনুসারী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। আজ মঙ্গলবার ভোরে তারা বেশ কয়েকটি স্পিডবোটযোগে দলবলসহ হঠাৎ নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। এসময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ভোর থেকে শুরু হওয়া এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর এবং দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কয়েক দফায় অব্যাহত থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে অনিক মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) ও জাকির হোসেনের ছেলে মুবারক হোসেনের (৩০) নাম জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুল্লাহ খান বলেন, সকালে তিনজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অনিক নামে একজন ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
মুজিবুর রহমান আরও জানান, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো এলাকায় চরম থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।