গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ নভেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:২৪:৩৬
গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ: পুলিশ বক্সে আগুন, ১৫ গাড়ি ভাঙচুর, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকায় এ বিক্ষোভ শুরু হয়।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের কারণে চন্দ্রা থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী ও পথচারী। যানবাহনে আটকে থাকা শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতির অবনতি ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর ও কালিয়াকৈর এলাকার অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
রোববার সকাল ১০টার দিকে কোনাবাড়ী শিল্প ও মেট্রো ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে পুলিশ বক্সের চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন আন্দোলনকারীরা। আতঙ্কে কোনাবাড়ী এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। দুপুর ১টার দিকে শিল্প ও মেট্রোপলিটন পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া দিলে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায়ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেন। এছাড়া একটি কারখানার ঝুট গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা সাঁজোয়া যান, রায়ট কার ও জলকামান নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি, বর্তমানে তারা যে বেতন পান, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
সুমি নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, “হয় আমাদের বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হোক, অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে দেওয়া হোক।”
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান বলেন, সকাল ৯টা থেকে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, সকাল থেকে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুর রহমান রুবেল জানান, কারখানা এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।