নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬ সকাল ০৯:৫৫:০০
জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৮ মৃত্যু, আহত ৫৩৯
জুলাই মাসে দেশে ৪৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫৩৯ জন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ মাসিক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি সংস্থার বিভাগীয় কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের স্বাক্ষর করা প্রতিবেদনটি ১১ আগস্ট অনুমোদন করা হয় এবং ১২ আগস্ট অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এতে জুলাই মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনার সংখ্যা, হতাহত, বিভাগভিত্তিক চিত্র এবং দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যায় শীর্ষে ছিল চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত এবং ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা বিভাগে ১০৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন এবং আহত হয়েছেন ১২২ জন।
রাজশাহী বিভাগে ৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছেন। রংপুরে ৫০টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। খুলনা বিভাগে ৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৩৯ জনের, আহত হয়েছেন ৮৬ জন।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। বরিশালে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত এবং ৫৩ জন আহত হন। সিলেট বিভাগে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৫৩ জন আহত হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সংখ্যা ও আহতের দিক থেকে চট্টগ্রাম এগিয়ে থাকলেও প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়েছে এই বিভাগেই। একই সঙ্গে ঢাকা বিভাগেও শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ দেশের দুই বড় ও ব্যস্ত অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা জুলাইয়েও অব্যাহত ছিল।
বিআরটিএর হিসাবে, জুলাইয়ের ৪৪১টি দুর্ঘটনায় মোট ৬৭৩টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান—১৪২টি। এরপর মোটরসাইকেল ১২৪টি, বাস ও মিনিবাস ১০৬টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৫৭টি, পিকআপ ৩৫টি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ২৮টি এবং ইজিবাইক ২১টি।
যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানির চিত্র আরও উদ্বেগজনক। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ১০৯ জন নিহত হয়েছেন। এরপর ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৫৬ জন, বাস ও মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এ ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের দুর্ঘটনায় ৯১ জন, পিকআপে ১৬ জন, ইজিবাইকে ১৫ জন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় ১৪ জন, ভ্যানে ১২ জন, মোটরকার বা জিপে ৮ জন, মাইক্রোবাসে ৫ জন, ট্রাক্টরে ৪ জন এবং অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
বিআরটিএর পরিসংখ্যান বলছে, জুলাইয়ের মোট প্রাণহানির প্রায় এক-চতুর্থাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ৪১৮ জন নিহতের মধ্যে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল-সম্পৃক্ত দুর্ঘটনায়। এ চিত্র দেশের সড়কে মোটরসাইকেল নিরাপত্তা, চালকের প্রশিক্ষণ, গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।