টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৯ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৬:২৩:৪৮
বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন, ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মুরাদ তালুকদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতারণার শিকার হয়ে তারা এখন আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয় বছর আগে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সবর উদ্দিন শেখকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ৩ লাখ টাকা নেন একই এলাকার মুরাদ তালুকদার। তবে বিদেশে পাঠানো তো দূরের কথা, ওই টাকা আর ফেরতও দেননি তিনি। পরবর্তীতে জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আরও ১২ লাখ টাকা নেন, ফলে মোট ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, শুধু সবর উদ্দিনই নন—উপজেলার আরও একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকেও বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছেন মুরাদ তালুকদার। তবে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার শেখ বলেন, ‘ভাইকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ধারদেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। পরে টাকা ফেরত না দিয়ে মুরাদ বলে জমি লিখে দেবে। এরপর জমির কথা বলে আরও ১২ লাখ টাকা নেয়। মোট ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর আমাদের একটি জমি দেখিয়ে দখলেও দেয়। কিন্তু পরে দলিল চাইলে সে টালবাহানা শুরু করে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ওই জমির কিছু অংশ খাস জমি, আর কিছু অন্যের নামে রেকর্ড করা। এখন আমরা সবদিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইলে মুরাদ তালুকদার হুমকি-ধমকি দেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপ নিতেও সাহস পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত মুরাদ তালুকদার স্থানীয় আকবর তালুকদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন না বলেও জানা গেছে।
গত শনিবার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয়। সবর উদ্দিনের বোন জানান, ‘জমি কেনার জন্য এনজিও থেকে সুদে টাকা নিয়ে তিন বছর আগে ১ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখনো জমি বুঝিয়ে দেয়নি। দেনার টাকাও শোধ করতে পারছি না, সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুরাদ তালুকদারের বক্তব্য জানতে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, মুরাদ তালুকদার আগে দলটির একটি অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিএনপির কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
টুঙ্গিপাড়া থানার (ওসি তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রতারণার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।