নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ০৫:৪৪:০৬
তুরাগে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব: সাংবাদিকসহ ৪ জন রক্তাক্ত জখম
রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অতর্কিত হামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল এস’-এর তিন সাংবাদিক ও বাংলা টিভির সাংবাদিকসহ অন্তত ৪জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের পূর্ব পাশে ‘উত্তরা সেন্টার ফুড কোর্ট’-এর সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকরা হলেন, চ্যানেল এস এর স্টাফ রিপোর্টার শাহাদাত হোসেন ইমরান,সিটি রিপোর্টার সীমা প্রধান, রিপোর্টার শান্ত মাহমুদ ও বাংলা টিভির সাংবাদিক মিজানুর রহমান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নূরে আলম (৩৩) নামে এক যুবকের সাথে ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলামের (৩৪) বাকবিতণ্ডা হয়। ওই সময় নূরে আলম আমিনুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে আমিনুল ইসলাম বিষয়টি পরিচিত সাংবাদিকদের জানালে তারা তথ্য সংগ্রহের জন্য রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিয়াবাড়ী ফুড কোর্ট এলাকায় উপস্থিত হন। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে অভিযুক্ত নূরে আলমের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র, বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় চ্যানেল এস-এর রিপোর্টার সীমা আক্তার (২৬), মো. শান্ত ইসলাম (২৫) এবং মো. মিজানুর রহমান (৩০) সহ আমিনুল ইসলাম রক্তাক্ত জখম হন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সীমা আক্তার ঘটনার ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে আসামী মো. হৃদয় (২৫) তাকে লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে, যা তার চোখের ওপর লেগে গুরুতর জখম হয়। এসময় হামলাকারীরা আমিনুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি Samsung S23 Ultra 5G স্মার্টফোন পিটিয়ে ভেঙে ফেলে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৫ হাজার টাকা। হামলার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতরা কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এই ঘটনায় আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূরে আলম ও তার সহযোগী আলামিনকে (২৭) আটক করতে সক্ষম হলেও বাকিরা এখনো পলাতক রয়েছে।
তুরাগ থানার ইন্সপেক্টর মো: টোকনুজ্জামান জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। বর্তমানে দুইজন আটক রয়েছে।